রাজগ্নুহু নালন্দ।

গ্রন্থকার - প্রণীত,

4৯ 02101021. 2160 90015610178 0০ 015০ 9210172৬255 22212 512 হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে 7০1৮০] 05] 7১211950017 উপাধি - প্রাপক শ্বেতাম্বর - ট্গনশাস্ত্রের দশন “অঙ্গ” - বিষয়ে গবেষণাগ্রস্থ।

901)0015 97209390651) 75370 11692%609. বিশ্বভারতী জৈনধর্ম। বিশ্বভারতী

শীঘ্রই প্রকাশিত হইবে বুদ্ধকথা

অশোকলিপি

প্রাচীন ভারত-চীন

বাজগ্হু নালম্পা

ভক্টবু অসস্ুলওচক্ন্র ০নন এম. এর. ভি- ক্িল্‌- €ভাম্বুশ্শ )

ভারতবিহনীষিহাক্ষ-

কলিকাতা!

শর্ট, ১৩৫৮॥অক্টোবর, ১৯৫৯

প্রকাশক শ্রীবাণী মুন্দি ইশ্ডিয়ান্‌ পাবৃলিসিটি সোসাইটি ২১ বলরাম ঘোষ স্্রীট, কলিকাতা মুদ্রাকর শ্রীকালিদাঁস মুন্সি পুরাণ প্রেস ২১ বলরাম ঘোষ স্রীট, কলিকাতা

নিবেদন

মোহেন্জোদটো, হঢ়গ্ল। তক্ষশিল৷ আজ তারতবহিভূতি হওয়ায় রাজগৃহই এখন তারতের প্রাচীনতম প্রত্বক্ষেত্র। নালন্দা শুধু ভারতের নয়, সমগ্র প্রাচীন - এশিয়ার গৌরবময়ী জ্ঞানধাত্রী

এই পুস্তিকা প্রকাশ অনেকের সন্গদয় আগ্রহে সম্ভব হুইয়াছে। বিশ্বভারতী গ্রস্থনবিভাগের উপাধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত পুলিনবিহারী সেন পাগুলিপি শোধন হইতে আরম্ভ করিয়া চিত্রসংগ্রহ গ্রন্থন - সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যাপারে সত্ব শ্রমন্বীকারপূর্বক আমার প্রভূত আহম্কুল্য করিয়াছেন। বাংল। সাহিত্যের ভাগ্ার বধনে পরমোৎসাহী শীবুক্ত বিনয়কৃষ্ণ দত্ত তাহার বহুমূল্য গ্রস্থন - অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করিয়া নানাভাবে আমার সহায়তা করিয়াছেন

রচনাটি “দেশ” সাপ্তাহিক পত্রে প্রথম প্রকাশিত হয়। দেশ পত্রের সহকারী সম্পাদক শ্রীধুক্ত সাগরময় ঘোষ কর্মাধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত কানাইলাল সরকার প্রবন্ধ প্রকাশ চিত্র নির্বাচনে বহু ষত্ব করিয়াছিলেন। এই গ্রন্থে প্রকাশিত চিত্রগুলি শ্রীযুক্ত ইন্্র ছুগার কতৃকি অস্কিত। নালন্দার আলোকচিত্রাবলী শ্রীযুক্ত আর্ধকুমার সেন কতৃক এবং অন্তান্ত অ।লোক- চিত্র শ্রীযুক্ত অঞ্চল মজুমদার কতৃক গৃহীত। চিত্রগুলি প্রথমে দেশ পত্রে প্রকাশিত হয়) এই গ্রন্থে সেগুলি পুনমুদ্রণ করিবার অচ্থুমতি দিয়! শিল্পীগণ দেশ - কতৃপক্ষ আমাকে খণপাশে আবদ্ধ করিয়াছেন।

ভারত বিদ্যা - প্রচারোৎসাহী শ্রীযুক্ত কালিদাস মুন্দি গ্রন্থের যুদ্রণে বহু যত্ব স্বীকার প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণদ্বারা আমার গুরুতার হরণ করিয়াছেন।

ইহাদের সকলকেই আমার আস্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি

অমূল্যচন্দ্র সেন

ত্ফ্চী

রাজগৃহছের পথ

প্রাচীন হতিহাসের আকর প্রাগৈতিহাসিক ঘুগের মগধ জরাসন্ষের বুগে রাঁজপৃহ বিশ্বিসারের সময়ে রাজগৃহ রাজগৃছে বুদ্ধ মহাবীর অজাতশক্রর সময়ে রাজগৃহ পরবতী যুগের রাজগৃহ বর্তমান - রাজগুহু পরিক্রুম! নালন্দা

রাজগৃহ - নালন্দার ভবিষ্যৎ

মানচিআদ্বয়

ছঠি

-9০০

১০১ ত৭ ৩৮ ৪২. গু৬ ৭০১ ৪১৯

মাঝ্রে

রাজগুহের পথ

প্রাচীন রাজগৃহের বর্তমান নাম হিনি বানানে রাজগীর। ইহা! পাটনা জেলার বিহার সবডিভিশনের অস্তভূ ক্ত। হষ্ট ইপ্ডিয়ান রেলওয়ের পাঁটনা ংশনের ২৮ মাইল পূর্বদিকে বখ.তিয়ারপুর জংশন ? বখ.তিয়ারপুরে গাড়ী বদল করিতে হয়। এখান হইতে বখ তিয়ারপুর - বিহার লাইট রেলওয়ে নামক একটি ছোট রেল লাইন আরম্ভ হইয়! রাজগীরে শেষ হইয়াছে; দূরত্ব ৩৩ মাইল। পথে বখ.তিয়ারপুর হইতে ১৮ মাইল পরে বিহার - শরীফ ষ্টেশন, ইহা বিহার সবডিভিশনের সদর | প্রাচীন উদ্দগুপুর বা ওদন্তপুরী এখানে অবস্থিত ছিল। বিহার - শরীফ হইতে মাইল পরে নালন্না। নালনা! হইতে মাইল পরে রাঁজগীর, মধ্যে সিলাও নামক একটি ষ্টেশন পাটনা বা মুঙ্গের হইতে রাচি বা গয়ার দিকে যে সব বাস চলে তাহাও বিহার - শরীফ হইয়া যায়। বিহার - শরীফ হইতে গয়! -রণচির

রাজগৃহ নালন্দ!

মোটরপথে (রাজগৃহের পথে নয় কারণ বিহার - শরীফ হইতে বড় মোটররাস্তা ছাঁড়িয়া একটি শাখারাস্তা রাজগৃহে গিয়াছে ) ১৬ মাইল দুরে জৈনদের প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান পাবাপুরী ; এখানে জৈনদের শেষ তীর্থংকর মহাবীর দেহরক্ষ/া করিয়াছিলেন পাবাপুরীর মন্দিরাদি অতি আধুনিক কালে নিশ্িত। বিহার - শরীফ হইতে রাজগীর পযন্ত বাসেও যাতায়াত করা যায়। |

বখতিয়ারপুর হইতে বিহার - শরীফ পর্যস্ত ছোট রেল লাইন মোটরপথ সোজা খুব পাশাপাশি গিয়াছে। তাহার পর রাজগীর পর্যস্ত শাখাপথ রেল লাইন আঁকিয়৷ বাঁকিয়া কখনও পরস্পরকে কাটাকাটি করিয়! গিয়াছে নালন্দা ষ্টেশন হইতে প্রাচীন মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ তাহার সন্নিকটের মিউজিয়ম প্রায় ছুই মাইল পথ। নালন্দায় কোন যানবাহন, থাঁকিবার বা আহারাদির স্থান নাই। তাই সঙ্গে জিনিষপত্র থাকিলে আহাাদি না থাকিলে সোজ। রাজগীরে গিয়া সেখানে থাকা - খাওয়ার ব্যবস্থা করিয়। পরে স্থবিধামত নালন্া দেখা ভাল। সকাল হইতে প্রায় প্রতি ঘণ্টা অন্তর রাজগীর - নালন্৷ যাতায়াতের ট্রেন পাওয়া যায়। ধ্বংসাবশেষ মিউজিয়ম দেখিতে অন্তত ঘণ্টা সময় দেওয়! উচিত। সিলাও স্টেশনের কাছেই বাজার ; এখানকার টিড়া খাজা প্রসিদ্ধ

সিলাও ষ্টেশনের পর হইতেই রাজগীরের পাহাড়গুলির পূর্বদিকে অংশ অর্থাৎ প্রথমে শৈলগিরি, তারপর ছঠাগিরি ক্রমে বিপুলগিরি (মানচিত্র ১) চোখে পড়ে ' রাজগীরে ছুই - একখানি একা! ডুলি ছাড়া কোন যানবাহন পাওয়া যায় না। বাজার, ধর্মশালা অন্যান্য

রাজগুহের পথ

বাসস্থান ষ্টেশন হইতে অধ-মাইলের মধ্যে। ষ্টেশন হইতে বাহির হইয় ডান ( উত্তর ) দ্বিকে বাজার ধর্মশালা গ্রাম প্রভৃতি এবং বাম (দক্ষিণ ) দিকে ব্রঙ্গদেশীয় মন্দির, ইন্স্পেক্শন বাংলো, রেষ্ট হাউস, জাপানী মন্দির এবং উষ্ণ প্রশ্রবন পর্বতমালাবেষ্রিত প্রাচীন দ্রষ্টব্য স্বানগুলি। .

প্রাচীন ইতিহাসের আকর

রাজগৃছহের তথা ভারতের প্রাচীন ইতিহাস আলোচনা করিতে গেলে আকর -গ্রন্থগুলির কিছু পরিচয় দেওয়৷ আবশ্তক। আমাদের দেশে শিক্ষিত. লোকের মধ্যেও প্রাচীন যা! কিছু সব সম্বদ্ধেই কিন্বদস্তী বা শাক্তরোক্তি অত্রান্ত সত্য বলিয়! নিবিচারে গ্রহণ করিবার অভ্যাস এবং প্রাচীন মাত্রকেই হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ বছর পুরাতন বলিয়া মনে করিবার ইচ্ছা দেখা যায়। ইহা বৈজ্ঞানিক - প্রণালীসম্মত তুলনা ঘুক্তিমূলক এঁতিহাসিক বিচার - আলোচনার পদ্ধতি ণয়। বিষয়ে পণ্ডিতদের বহু গবেষণা চর্চার সারমর্ম অতি সংক্ষেপে লিখিতেছি।

কোন প্রাচীন শাঙ্জ বা'গ্রন্থ মা্ছষ ছাড়! আর কাহারও দ্বারা লিখিত নয়। তাই সবেতে বহু উক্তির বিভিন্নতা, বিরোধ এমন কি ভুলভ্রান্তিও দেখা যাঁয়। আমাদের প্রাচীন শাস্ত্রগুলির অধিকাংশ একদিনে একজনের দ্বারা লিখিত হয় নাই; কয়েক যুগ ধরিয়া রচিত অনেকের রচনা অনেকদিন লোকের মুখে মুখে চলিয়া কোন এক সময়ে একত্র সংগৃহীত লিপিবদ্ধ হয় এবং তাহার পরও তাহাতে অনেকদিন ধরিয়া জোড়াতালি চলে। ভারতের প্রাচীন শাস্ত্র গ্রন্থাদির লেখক বা রচনাকাল, গ্রন্থকার অন্ত প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের জীবন - কাল, এঁতিহাসিক ঘটনাবলীর সময় প্রভৃতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ঠিক নিধর্ণরণ করা যায় না, একটা মোটামুটি ধারণা লইয়া কাজ

চালাইতে হয়।

প্রাচীন ইতিহাসের আকর

ভারততাত্বিক প্রতিহাসিকদের মতে বৈদিক সংহিতার প্রাচীন ংশগুলি খু. পৃ. অস্থমান ১৬ - ১৩ শতকের মধ্যে রচিত। অথর্ববেদের শেষাংশ, এঁতরেয় তৈত্তিরীয় শতপথ প্রভৃতি প্রাচীন ব্রাহ্গণ এবং বৃহদারণ্যক ছান্দোগ্য উপনিষদের প্রাচীন অংশগুলি অন্থমান খু. পু. - শতকের মধ্যে রচিত। মহাভারতের রচনাও এই সময় ' হইতে আরম্ভ হয় এবং খু. শতক পর্যস্ত তাহা পরিবধিত হইতে থাকে মহাঁভারতবপিত কুরুক্ষেত্রযুদ্ধ সম্ভব অনুমান খু. পৃ. শতকের ঘটনা রামায়ণ অনুমান খু. পৃ. - শতকে প্রথম রচিত হুইয়া পরে আরও পরিবধিত হয়। পুরাণগুলিতে অনেক প্রাচীন কাহিনী কিন্বদস্তী সংগৃহীত হইলেও এখন পুরাণগুলিকে যে যৃতিতে দেখ যায় তাহার রচনা সম্ভব খু. শতকের পূর্বে নয়। ভাগবত - পুরাণখানি আরও অনেক পরবর্তা কালের, সম্ভব খু. ১০ শতকের রচনা বুদ্ধের জন্ম হয় অগ্থমান খু. পৃ. ৫৬৩ এবং মৃত্যু হয় অনুমান খু. পু. ৪৮৩। জৈনতীর্থংকর মহাবীর, রাজ বিষ্িসার অজাতশক্র বুদ্ধের প্রায় সমসাময়িক ছিলেন। বৌদ্ধশাস্ত্র ব্রিপিটক পালিতাষায় রচিত। অনেকদিন মুখে মুখে চলিয়া অস্থুমান খু. পু. শতকে ইহার স্থত্তনিপাত, বিনয়পিটক জাতকগুলি লিপিবদ্ধ হয়। বৌদ্ধশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গীকাকার বুদ্ধঘোষ অনুমান খু. শতকের লোক। সিংহলের পালি প্রতিহাসিক গ্রন্থ মহাবংস অচ্ুমান খু. শতকে রচিত। অন্তাগ্ত বৌদ্ধটীকাদিও পরবর্তা কালের রচন] শ্বেতাম্বর - জৈন শাস্ত্রে অংশবিশেষ রচনার পর বহুদিন মুখে মুখে প্রচলিত পরিবধিত হইতে থাকে এবং অচুমান খু.

রাজগৃহ নালন্দা

শতকে প্রথম লিপিবদ্ধ হয়। দিগম্বর - জৈনর৷ এই শাস্ত্র প্রামাণিক বলিয়া মানেন না। দিগম্বরর! শাস্ত্রতুল্য বলিয়। যে গ্রন্থগুলিকে মানেন তাহা সবই খুষ্টপর যুগের রচন|।

চীনদেশের সঙ্গে ভারতের সংযোগ, চীনা পরিব্রাজকদের তারত - ভ্রমণ ভারতীয় পণ্ডিতদের চীনদেশে গমনাঁগমন চলিয়াছিল খু. হইতে ১১ শতক পর্যস্ত। চীনা পরিব্রাজকদের মধ্যে ফা হিয়েন ১৪ বছর (খু. ৪০০ - ৪১৪ ), হিউয়েন ৎসাং ১৬ বছর (খু. ৬২৯ - ৬৪৫) এবং ৎসিং ২৪ বছর-( খু. ৬৭১ - ৬৯৫ ) তাঁরতে কাঁটাইয়াছিলেন। রাজগৃহ নালন্দা সম্বন্ধে বহু সংবাদ আমরা চীনা পরিব্রাজকদের নিকট পাইয়াছি।

চীনের মত তিব্বতের সঙ্গেও ভারতের সংযোগ আদান - প্রদান চলিয়াছিল খু. হইতে ১৩ শতক পর্যস্ত। নালন্দা বিক্রমশিলা প্রভৃতি সম্বন্ধে বহু তথ্য আমরা জানি তিব্বতী গ্রন্থ হইতে তিব্বতী ধ্রঁতিহাসিক তারানাথ সম্ভব খু. ১৬ - ১৭ শতকের লোক

এই পুক্তিকা্টি প্রণয়নে প্রাচীন শান্তর গ্রন্থাদি ছাড়া সরকারী ভারতীয় প্রত্বতভ্বু বিভাগ (4:017990108108] 10808:607926) কতৃকি প্রকাশিত বিবিধ সন্দর্ভাদি ব্যবহার করিয়াছি। তা ছাড়া যে সব প্রসিদ্ধ এঁতিহাসিক অন্তান্ত লেখকের মতামত তথ্যাদি গ্রহণ করিয়াছি, বথাস্থানে তাহার উল্লেখ করিয়াছি

প্রাগৈতিহাসিক যুগের মগধ

প্রাচীন মগধের রাজধানী রাজগৃহের আর একটি নাম গিরিব্রজ | লক্ষ্য করিবার বিষয়, গিরিব্রজ-রাজগৃহ নামে উত্তর - পশ্চিম ভারতেও একটি নগর ছিল। রামায়ণে দেখা যায় ইহা ছিল কেকয় দেশের রাজধানী কেকয় দেশ বা কেকয় জাতির উল্লেখ খণ্থেদে নাই কিস্তু শতপথব্রাহ্ষণ ছান্দোগ্য -উপনিষদে আছে; রামায়ণ - মহাঁভারতেও কেকয়র৷ স্ুবিজ্ঞাত। দশরথপত্বী ভরতমাত]1 কৈকেয়ী এই দেশের রাজা অশ্বপতির কন্তা ছিলেন। কুরুক্ষেত্র - যুদ্ধে কেকয় দেশ কুরুপক্ষে যোগ দিয়াছিল। রামায়ণের বর্ণনায় কেকয় দেশ বিপাশা নদী (আধুনিক বিয়াস্‌ ) হইতে পশ্চিমে গান্ধার দেশের ( আধুনিক কাবুল অঞ্চল ) সীমা পর্বস্ত বিস্তৃত ছিল। জেনারেল কানিংহাম ঝিলম্‌ নদীতীরস্থ জালালপুরের নিকটবর্তা আধুনিক গির্য়াক নামক স্থানে কেকয় দেশের রাজধানী গিরিব্রজ - রাজগৃছের স্থান নির্দেশ করিয়াছেন। আশ্চর্যের বিষয় যে, আমাদের আধুনিক রাজগীরের কাছেও, পূর্বদিকে মাইল দুরে, গিরিয়াক নামে একটি স্থান আছে। সম্ভব গিরি + অগ্র-গির্গ্র হইতে এই নামের উত্তব হয়, অর্থাৎ যাহা! পাহাড়ের আগে (অল্প বাহিরে, কাছে ) অবস্থিত। কেকয় দেশের গিরিব্রজ - রাজগৃহ হইতে পার্থক্য বুঝাইবার জছ্য মহাভারত, রামায়ণ বৌদ্ধ বিনয়পিটকে আমাদের রাজগৃহকে সর্বদা “মাগধদের গিরিব্রজ ( বা রাজগৃহ )” বল! হুইয়াছে।

রাজগৃহ নালন্দ।

বিতিব্ন দেশে একই নামের স্থান থাকিলে প্রায়ই দেখ! যায় তাহার কারণ এক দেশের লোক অন্ত দেশে গিয়া বসতি বা নগরাদি স্থাপন করিয়াছে, যেমন ইংলগ্ডের লোক উত্তর - আমেরিকায় গিয়া! নিউ - ইংলও, নিউইয়র্ক প্রভৃতির স্থাপনা করে,বিহারের রোহতাম্গড়ের অধিপতি শের শা পঞ্জাব জয় করিয়] সিদ্ধনদের তীরে রোহতাস্‌ নামে হূর্গ স্থাপনা করেন। উত্তর ভারতের মখুরা ( -মধুরা ) হইতে দক্ষিণ ভারতের মন্থুরা নগরের নামকরণ হয় আবার দক্ষিণ ভারতের লোক থাম স্থুমাত্র যব বলি প্রভৃতি দেশে উপনিবেশ স্থাপন করিয়া নূতন দেশে মুর! অগ্ঠ বনু দক্ষিণতারতীয় নগরের নাম দিয়! নগর স্থাপনা! করে। অতএব এরূপ অনুমান অসঙ্গত নয় যে, কেকয়ের মগধের গিরিব্রজ-রাজগৃহ- গিরিয়াকের মধ্যে এরূপ কোন যোগসম্বদ্ধ থাকিতে পারে। কেকয়ের লোক মগধে আসিয়াছিল, না মগধের লোকই কেকয়ে গিয়াছিল ?

পঞ্জাবের উত্তর - পশ্চিমে বক্ষ নদীর ( আধুনিক 00৪ ) তীরে বাল্ধ, (প্রাচীন বাহিলক ) প্রদেশে ছিউয়েন ৎসাং রাজগৃহ নামে তৃতীয় আরও একটি নগর দেখিয়াছিলেন। ইহাকে ছোট - রাজগৃহ বলা হইত। রাজার গৃহ অর্থাৎ রাজধানী অর্থে যে কোন দেশের প্রধান নগরের নাম রাজগৃহ হওয়া বিচিত্র নয়, কিন্তু তথাপি বাহিলক কেকয়ের রাজগৃছের মধ্যে কোন সংযোগ থাকা হয়ত সম্পূর্ণ অসম্ভব নয়। সম্ভবত কেকয় জাতির কোন শাখা! পরব্তা কালে বাহিলকদেশে গিয়া “ছোট” রাজগৃহের স্থাপনা করিয়াছিল।

পুরাণে প্রসিদ্ধ আছে যে, কেকয় জাতি অনার্য অস্থুনামক জাতি হইতে উদ্ভুত। জৈন শান্ত্রেও উল্লিখিত আছে যে, কেকয় দেশের

শীত তসপ পাা শীল শি ৯০০ শশা পি ড় তত * ঠা ২০০ শসা আর পাপ সপ শপ শপ পাশ ] রর নি

& 5 বি রশ

শত ০:০৭ ৯০৯০ শি

, লজ ৩2

চর

1 $ মঠ ্ঠ & $ রি ২২

প্রাগৈতিহাসিক যুগের মগধ

অধেকমাত্র আর্য। খখ্থেদের মগ্ডলে দেখা যায় যে, অঙ্জাতির বাসস্থান ছিল পঞ্জাবের ঠিক সেই অঞ্চলে যাহা৷ রামায়ণে কেকয়দেশ বলিয়। বণিত হুইয়াছে। মহাভারতের বর্ণনায় কেকয় বাহিলক দেশদ্বয়ের মধ্যে খুব নিকটসন্বন্ধ দেখা যায় এবং পুরাণের বর্ণনায় দেখা যায় যে, মদ্্রদেশের ( লাহোরের পশ্চিমাঞ্চল ) সঙ্গে কেকয়জাতি ঘনিষ্ঠ - সম্বদ্ধ। এইসব কারণে মনে হয় যে, আর্ধরা যখন উত্তর - পশ্চিম হইতে ভারতে প্রবেশ করে তখন তাহাদের দ্বার বিজিত তাহাদের সঙ্গে কিছু পরিমাণে মিশ্রিত হুইয়! অনার্য অমুজাতির বংশধর কেকয়গণ ক্রমে পূর্বদিকে বিস্তৃত হইতে থাকে।

“অনার্য” মানেই অসভ্য নয় ; ইহার অর্থ আর্য হইতে বিভিন্ন অন্য জাতি। আর্ধদের ভারত - প্রবেশের পর যেসব ভারতবাসী জাতির সঙ্গে আর্ধদের বুদ্ধ করিতে হয় তাহাদের মধ্যে অনেক অসভ্য জাতি ছিল সত্য কিন্তু আর্দের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে শ্থসভ্য জাতিও যে ছিল তাহা আধুনিক ইতিহাসজ্ঞানে স্ুবিদিত। আর্ধরা বাহুবলে এই ম্ুুসভ্য ভারতবাসী জাতিদের জয় করিলেও ইহাদেরই সংস্পর্শে অধপ্সভ্য আর্ধরা সত্যতার পথে উন্লতিলাভ করে। ভারতীয় সভ্যতার বহিরাঁবরণ মাত্র আর্য, ভিতরের অধিকাংশই অনার্ধ। আর্য প্রাগার্য তারতীয় জাতির সংমিশ্রণে ভারতীয় জাতি সত্যতার পূর্ণ বিকাশ হয়।

দক্ষিণভারতীয় প্রাচীনলিপি হইতে জানা যায় যে, কেকয় জাতির একটি শাখা দক্ষিণতারতে গিয়া মহীশূরে রাজ্য স্থাপন করে ) ইহাদের দ্বারা বোধহয় মহীশূরের একটি প্রাচীন রাজবংশের প্রবর্তন হয়।

১০ রাজগৃহ নালন্দা

কেকয় জাতির অপর কোন শাখা কি পূর্ব - দক্ষিণ ভারতে অগ্রসর হইয়! মগধে উপনিবেশ স্থাপন করিয়া নিজেদের প্রাক্তন রাজধানীর নামে মগধে গিরিব্রজ - রাজগৃহের স্থাপনা করে ?

অস্ুজাতি - উদ্ভূত অধ- আর্ধ কেকয়জাঁতির সঙ্গে মগধের সংযোগ সম্বন্ধে হয়ত আরও একটি প্রমাণ উপস্থাপিত করিতে পারা যায়। খণ্থেদের মগ্ডলে কীকট নামক একটি জাতির উল্লেখ আছে। নিরুক্তকার যাস্ক ( অঙ্ুমান খু. পৃ. শতক ) কীকট দেশকে “অনার্য - নিবাস” বলিয়াছেন। বৃহন্ধর্পপুরাণে কীকট দেশকে “পাপভূমি” এই দেশের রাজ! কাককর্ণকে প্বরহ্মদ্বেষকর” এবং এই দেশে গয়া নামক একটি স্থান আছে বলা হুইয়াছে। বায়ুপুরাণে আছে যে কীকটদেশে পুণ্যা গয়া, পুণ্য রাজগৃহবন, পুণ্য চ্যবনাশ্রম এবং পুণ্যা পুনঃপুনা ( বর্তমান পুন্পুনা বা পুনুপুন্‌ ) নদী আছে। ভাগবতপুরাণে কীকট দেশের উল্লেখ সম্পর্কে টীকাকার শ্রীধর বলিয়াছেন যে গয়া এই দেশে অবস্থিত। এইসব হইতে বেশ বুঝা যায় যে মগধেরই প্রাচীন নাম কীকট। পরবর্তী কালের গ্রস্থকাররাও একথ| বলিয়াছেন। অভিধানচিস্তামণিকার হেমচন্ত্র (খু. ১২ শতক ) স্পষ্ট বলিয়াছেন যে মগধেরই নাম কীকট। অনার্ধদের দেশ, অর্থাৎ আর্ধরা তখনও তাহা জয় করিতে পারে নাই বলিয়। ইহা আর্য * ব্রাহ্মণ সমাজের কাছে “পাপভূমি” আখ্যা পাইয়াছিল, এখানকার রাজা লোক বৈদিকধর্ম মানিতেন না! তাই তাহারা “ব্রহ্গদেষকর”।

প্রতিহাসিক ধুগে মগধের একজন রাজার নাঁম কালাশোক ৰা কাকবর্ণ ছিল। বৃহন্ধর্মপুরাণোক্ত ব্রহ্মদ্বেষকর কীকটরাঁজ কাককর্পের

প্রাগৈতিহাসিক যুগের মগধ ১১

নামের “কর্ণ” শব্দটি হয়ত এতিহাসিক যুগের মগধরাজ কাকবর্ণের নামের “বর্ণ” শব্ধের ভ্রমে জাত, পুথি নকল করার সময়ে “বৰ” স্থানে “ক” হইয়া গিয়াছে কাকের কানের চেয়ে রংটিই বেশি উপমাযোগ্য। যদিও একদেশে একনামের একাধিক রাজা থাকা মোটেই অসম্ভব নয় কিন্তু ডক্টর গ্রীহেমচন্ত্র রায়চৌধুরী মহাশয়' মনে করেন যে, বৃহধধর্ম - পুরাণের কাককর্ণ ইতিহাসের কাকবর্ণ একই ব্যক্তি হইতে পারেন। অধ্যাপক কীথ. সাহেব বলেন যে, খগ্থেদের কীকটদেশ যদ্দি সত্যই মগধ হয় তবে মগধের প্রতি বিদ্বেষ খণ্বৈদিক যুগেও আর্যদের মধ্যে প্রবল ছিল এবং ইহার কারণ খুব সম্ভব এই ছিল যে, এই দেশে অনার্ধরক্তের প্রাবল্য ছিল এবং বৈদিকধর্ম এখানে পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করিতে পারে নাই, যাহার ফলে পরবর্তা যুগে মগধ বৌদ্ধাদি অবৈদিক অক্রাঙ্গণ্য ধর্মের প্রধান ক্ষেত্র হইয়াছিল। কেকয় কীকট এই ছুই শব্দে কিছু ধ্বনিগত সাদৃশ্তঠও আছে। হয়ত কেকয়জাতি মগধে আসিয়। কীকট নাম পাইয়াছিল অথবা কীকটজাতি পঞ্জাবে গিয়া কেকয় নাম পাইয়াছিল। তারতের ইতিহাসে উত্তর - পশ্চিম হইতে বিজেতাদের পূর্ব - দক্ষিণে বিস্তৃতি যেমন, তেমনি মগধ হইতেও উত্তর - পশ্চিমে বিস্তৃতি বহুবার ঘটিয়াছে। _. খ্রতিহাসিকরা মনে করেন যে, আর্ধরা ভারতে প্রবেশের সময়ে এবং তারপর অনেকদিন পর্যন্ত যেসব ভারতবাসী সত্যজাতির সঙ্গে আর্ধদের সঙ্বর্ষের কথা খণ্বেদ হইতে জানা যায় এবং যাহাদের আর্ধরা অন্গুর দৈত্য দানব দন্থ্য দাস প্রভৃতি নামে উল্লেখ করিয়াছেন, তাহার! বা তাহাদের কোন শাখা সিন্ধুনদ উপত্যকার মোহেঞ্জোদড়ো

১২ রাজগৃহ নালন্দা

হ্ঢ়পপা! প্রভৃতি স্থানে আবিষ্কৃত প্রাচীন সত্যতার প্রবর্তক। পঞ্জাবের উত্তর পশ্চিমে অনেক দূর পর্যস্ত এই সভ্যতার আরও অনেক নিদর্শন আবিষ্কৃত হুইয়াছে। সেই প্রাগার্য প্রাচীন সত্যতা একটি জাতি বা এক জাতির ভিন্ন ভিন্ন শাখা বা বিডির জাতি কতৃক প্রবর্তিত হইয়াছিল কিনা তাহা! বল! যায় না, কিন্ত অনেক এঁতিহাসিক তাহাকে সাধারণভাবে “অনুর” নাম দিয়াছেন কেহ বলেন “অস্থ্ররা”, অন্তত তাহাদের কোন কোন শাখা! বোলান্‌ - গিরিবত্ব পথে, কেহ বলেন সিদ্ধুনদ - মোহানার পথে, কাহারও কাহারও মতে পূর্বাঞ্চল হইতে উত্তর পশ্চিম ভারতে বিস্তৃত হয়। আর্ধদের আক্রমণে পরাজিত হুইয়৷ এই “অস্থ্ররা” উত্তর পশ্চিম হইতে হটিয়া দক্ষিণ পূর্ব ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। মগধ - রাজগৃছের রাজ! জরাসন্ধ আসাম - প্রাগংজ্যোতিষপুরের রাজা তগদত্ত অন্থুরবংশীয় বলিয়া ক্ববিদিত ছিলেন মগধের অতি প্রাচীন স্থান গয়াও গয়া্মুর বা গজান্থরের নগরী বলিয়া খ্যাত ছিল। ভারতের প্রাগার্য দ্রবিড় সত্যতা সম্ভব এই অন্থুর সভ্যতার বংশধর।

অথর্ববেদে মগধৰাসীদের ব্রাত্য অর্থাৎ বৈদিক ব্রাঙ্গণ্য সমাজের ঘহিভূতি বল! হুইয়াছে। সামবেদীয় লাট্যায়নশ্রৌতস্থত্রে মাগধব্রাঙ্গণদের হীনবাক্ষণ ব্রাত্য বলা হুইয়াছে। পরবর্তা কালের শাস্ত্রাদিতে মগধের লোককে বর্ণসংকরজাত একটি বিশিষ্ট জাতি বলিয়৷। উল্লেখ করা হইয়াছে গৌতমধর্মশান্ত্র মন্গুসংহিতায় “মাগধ” অর্থে মগধদেশের অধিবাসীদের না বুঝাইয়া বৈশ্তপিতা ক্ষত্রিয়মাতার সন্তান বুঝাইয়াছে এবং মন্গুসংহিতায় মাগধদের বাণিজ্যব্যবসায়ী

প্রাগৈতিহাসিক যুগের মগধ ১৩

গায়ক - কথকরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে। তৈত্তিরীয়ব্রাঙ্মণে মাগধদের উচ্চ কণ্ঠস্বরের উল্লেখ আছে। শতপথব্রাহ্মণে বলা হইয়াছে যে, কোশল বিদেহে (অর্থাৎ উত্তর - বিহারের পশ্চিম পূর্বাংশে ) প্রাচীনকালে ব্রাঙ্মণবসতি স্থাপিত হয় নাই এবং মগধে তারও চেয়ে কম হইয়াছিল

শতপথব্রাহ্গণে আরও বণিত আছে যে, পঞ্জাবের সরস্বতী নদী হইতে পূর্বমুখে অগ্রসর হইয়! অগ্মি (আর্ধদের উপান্ত দেবতা অর্থাৎ বৈদিকধর্ম বৈদিক প্রভাব ) সদানীরানদী (আধুনিক রাপ্তিনদী, গণ্ডকনদের পশ্চিমে ) পর্যস্ত আসিয়াছিলেন এবং অদ্বানীরার অপর পারে প্রাচীনকালে কৌন ব্রাহ্মণ যাইতেন না। মহাভারতে সদানীরার পূর্বদেশতাগকে “জলোত্তব” বলা হইয়াছে অর্থাৎ অঞ্চল দক্ষিণ বাংলার স্বন্নরবন অঞ্চলের মত জলময় ছিল, নদীবহুল উত্তর বিহারের নিম্মভূমি তখনও কৃষিহীন ছিল। রামায়ণের কিছ্ষিন্ধ্যাকাণ্ডে দেখা যায় যে, স্ুগ্রীব সীতান্বেষণে বানর সেনাকে ভারতের সর্বদেশে এবং ভারতের বাহিরেও পাঠাইবার সময়ে মগধকে পূর্বদিকের, যেন ভারতের বাহিরে একটি দেশ ৰল৷ হইয়াছে।

এই সব হইতে মনে হয় যে অতি প্রাচীনকালে আর্ধব্রাহ্গণ সমাজ মগধকে যে হীনচক্ষে দেখিতেন তার কারণ মগধ তখনও আর্ধাধিকারে আসে নাই এবং মগধের লোক স্ুসভ্য হইলেও ব্রাঙ্গণ্যধর্মের প্রভাবাধীন হয় নাই। কিন্তু তথাপি মগধের সঙ্গে যাতায়াত বাণিজ্যসন্বন্ধ ছিল, ধর্মব্যবসায়ী পুরোহিততব্রাঙ্গণরা বিদ্বেষের চোখে দেখিলেও সাধারণ লোকের মধ্যে মগধের সঙ্গে বৈবাহিক সম্বন্ধ

১৪ রাজগৃহ নালন্দ।

চলিত; বাণিজ্য সম্পর্কে মগধের ধনী লোক ভারতে আসিয়া ক্ষত্রিয়কন্তা বিবাহ করিত। বাণিজ্য - সমৃদ্ধি, শিল্পকৌশল বিবিধ পণ্যক্রব্যের জন্ত মগধের খ্যাতি ছিল। রামায়ণে মগধকে অতি জ্ুসভ্য দেশরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে কৈকেয়ীর ক্রোধশাস্তির জন্য দশরথ তাহাকে মগধজাত শিল্পদ্রব্যার্দি উপহার দিবার প্রলোভন দেখাইয়াছিলেন। কালক্রমে যখন মগধ কিছু পরিমাণে ব্রাহ্মণ্যধর্মের আর্ধাধিকারের অধীন হয় তখন গয়া চ্যবনাশ্রম পুন্পুনানদী রাজগৃহ প্রভৃতি স্থান ব্রাহ্মণদের কাছে ক্রমে “পুণ্য” বলিয়! বিৰেচিত হইতে আরম্ভ করে।

জরাসদ্ধের যুগে রাজগৃহ

পুরাণে বধিত আছে কুরুর পুত্র ছিলেন স্বধন্বা, সধস্বার পর চতুর্থ রাজা বস্থ মগধ জয় করিয়! রাজধানী গিরিব্রজসহ তাহার জ্যোষ্ঠপুত্র বৃহদ্রথকে দান করেন এবং বৃহদ্রথ সেখানে বাহৃত্রথ - রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। রামায়ণের আদিকাণ্ডে কিন্ত আছে ব্রহ্মার চতুর্থ পুত্র বন্থ গিরিব্রজে রাজধানী স্থাপনা করিয়াছিলেন। বস্থ হইতে রামায়ণে গিরিব্রজের একটি নাম “বস্থুমতী” বল! হইয়াছে। বৃহত্রথপুত্র জরাসন্ধের রাজধানী বলিয়া আর একটি নাম “বার্দ্রথপুর ।” মৎ্ন্তপুরাণে জরাসন্ধের বহু বংশধরদের নামের মধ্যে একজনের নাম আছে কুশাগ্র এবং আর একজনের নাম বৃষত; সম্ভব ইহা হইতেই গিরিব্রজের জৈনসাহিত্যোক্ত “কুশীগ্রপুর” “বৃষতপুর” নামদ্বয়ের উৎপত্তি হয়। হিউয়েন সাং কুশাগ্রপুর বা কুশাগারপুর নামের ব্যাখ্যা শুনিয়াছিলেন যে, রাজগৃহে উৎকৃষ্ট কুশ (ম্থগন্ধি ঘাস, খশ খশ.) জন্মে বলিয়া নামের উৎপত্তি হয়। ব্যাখ্যা পরবর্তী কালের বৌদ্ধদের কল্পনাপ্রন্থত, ধাহারা পৌরাণিক কাহিনীর বিশেষ ধার ধারিতেন না) যদিও একথা সত্য যে রাজগৃহ অঞ্চল উত্তম থশ খশ. ঘাসের জন্ত প্রষিদ্ধ। _. টীকাকার বুদ্ধঘোষ বলিয়াছেন রাজগৃহ মান্ধাতা কতৃক স্থাপিত হইয়াছিল ; এই কিন্বদস্তীতে সুচনা করে যে, রাজগৃহের স্থাপনা অতি প্রাচীনকালে হুইয়াছিল। বৌদ্ধরা বলেন মহাগোবিন্দ নামক একজন

১৬ রাজগৃহ নালন্দা

স্থপতি রাজগৃহনগর নির্মাণ করেন। গিরিব্রজ নামের “ব্রজ" শব্দের অর্থ হুর, গোচারণভূমি নয়। প্রাচীন সাহিত্যে গিরিব্রজকে সর্বত্র পর্বতবেষ্টিত সুরক্ষিত ছুর্গস্বরূগে বর্ণনা করা হইয়াছে মহাভারতের বর্ণনায় আছে গোরথগিরি হইতে মগধের রাজধানী দেখ। যাইত। ডক্টর বেণীমাধব বড়ুয়া জ্যাকসন সাহেব দেখাইয়াছেন যে, গয়ার নিকটবর্তী বরাবর - পাহাড়কে গোরথগিরি বল! হইত) ইহা পরে প্রবরগিরি নামে আখ্যাত হয় এবং 'প্রবর” শব্দ হইতে “বরাবর, শব্দের উৎপতি হয়।

মহাভারতের সভাপর্বে আছে জরাসন্ধ প্রবলপরাক্রান্ত রাজা ছিলেন এবং আদিপর্বে বলা হইয়াছে তিনি অন্থুররাজ বিপ্রচিত্তির অবতার ছিলেন; ইহাতে তাহার অনার্য “অন্তর” - জাতিত্ব স্থচন! করে। বিপ্রচিত্তি জরাসন্ধ নাম সম্ভব অনার্য ভাবার শব্দের সংস্কতরূপ। জরারাক্ষসী প্রভৃতির কাহিনী সম্ভব কাল্পনিক বা কোন “অন্থর” - কিন্বদস্তীপ্রহ্ুত | বিষুপুরাণে আছে জরাসন্ধ মথুরার রাজা কংসের সঙ্গে ছুই কন্তার বিবাহ দিয়াছিলেন এবং কৃষ্ণ কতৃক কংসবধের পর কৃষ্ণকে বধ করিবার অভিপ্রায়ে জরাসন্ধ বিপুল সৈন্য সমভিব্যাহারে মথুরা! আক্রমণ করেন, কিন্তু পরাজিত হইয়া! ফিরিয়া আসেন। মহাভারত ব্রহ্মপুরাণে আছে মধখুরা আক্রমণের সময়ে জরাসন্ধ উত্তর ভারতের অনেক রাজাদের পরাজিত বন্দী করিয়া আনিয়া! গিরিব্রজে কারাবদ্ধ করিয় রাখিয়াছিলেন এবং শিবের কাছে রাজাদের বলি দিতেন। হরিবংশে আছে মধুরা আক্রমণের সময়ে জরাসন্ধ কৃষ্ণভাতা বলরামের রথের ঘোড়া মারিয়া

সোনতাগ্ডার __ জীর্সংস্কারের পুর্বে পৃ ৬৭ - ৬৮

জরাসন্ধের যুগে রাজগৃহ ১৭

ফেলিয়াছিলেন। মহাঁতারত - শীস্তিপর্বে আছে যে, কর্ণের শৌর্ধখ্যাতি শুনিয়া জরাসন্ধ কর্ণের সঙ্গে যুদ্ধ করেন পরাজিত হন) কর্ণের বীরত্বে প্রীত হুইয়৷ তিনি কর্ণকে মালিনী - নগরীর রাজ! করেন। জরাসন্ধ এত প্রতাপশালী ছিলেন যে তাহাকে পরাস্ত না করিয়া যুধিষ্ঠির রাজনুয়যজ্ঞ সম্পাদন করিয়া একচ্ছত্রাধিপত্য লাত করিতে পারেন নাই। মহাভারত ভাগবত - পুরাণে আছে ভীম অর্জ,নকে সঙ্গে লইয়। কৃষ্ণ গিরিব্রজে যান এবং সেখানে ভীম জরাসন্ধকে বধ করার পর কৃষ্ণ জরাসন্ধের পুত্র সহদেবকে মগধের সিংহাসনে বসাইয়া জরাসন্ধ কতৃক বন্দীকৃত রাজাদের কারাগারমুক্ত করেন। বৌদ্ধরা বলিয়াছেন বহু প্রাচীন কাল হইতে বু রাজা এখানে রাজত্ব করায় রাজধানীর নাম রাজগৃহ হয়, আবার পুরাণকাররা বলিয়াছেন যে জরাসন্ধ বহু রাজাকে এখানে বন্দী করিয়া রাখায় গিরিব্রজের নাম রাজগৃহ হয়। এই ছুই ব্যাখ্যাই অলীক। আসলে রাজগৃহ মানে রাজার বসতিস্থান বা রাজধানী

জরাসন্ধের সঙ্গে উত্তরভারতীয় আর্ধজাতীয় রাজাদের বিরোধের কাহিনীতে প্রাচীন ফুগের আধ - অন্থর বিরোধের ছায়। পাওয়া যায়। অধ্যাপক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় ঠিকই বলিয়াছেন যে, মগধ বহুদিন পর্যস্ত আর্ধাধিকার প্রতিরোধ করিয়াছিল এবং মগধের “অনুর” বিক্রমের সঙ্গে আর্ধরা পারিয়া উঠেন নাই। জরাসন্ধের শিবপুজাঁও অর্থময়। শৈবধর্মের আরম্ভ যে প্রাগার্য যুগে হইয়াছিল তাহা আজকাল এ্রতিহাসিকগণের কাছে ম্থুবিদিত। শ্রীযুক্ত রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় দেখাইয়াছেন যে, শিৰ বহুদিন পর্যস্ত ব্রাহ্মণ্য -

রাজগৃহ নালনা।

১৮ ধর্মে হ্বীকত হন নাই এবং অনেক পরে ব্রাঙ্গণ্য মেবসভায় গৃহীত হইয়া- ছিলেন।'

. জরাসম্ধবধের পরেও আর্ধদের মগধজয় সম্পূর্ণ হয় নাই। মহাভারতের সভাপর্বে আছে জরাসন্বপুত্র সহদেব রাজস্ব ন৷ দেওয়ায় ভীম আবার গিরিব্রজে গিয়া সহদেবকে রাজস্ব দানে বাধ্য করেন এবং সহদেব পাগ্বদের সামস্তরাজারূপে যুধিঠিরের রাজনুয়যজ্ঞে যোগ দেন। উদ্ভোগপর্বে আছে জরাসন্ধের আর এক পুত্র ধৃষ্টকেতু কুরুক্ষেত্র - যুদ্ধে সসৈন্টে পাগ্বপক্ষে যোগ দেন; সহদেব সহজে পাওবদের বস্ততা স্বীকার না করিলেও ধষ্টকেতু হয়ত নিজস্বার্থ বধনের উদ্দেস্তে পাঁওবপক্ষীয় হইয়াছিলেন। অশ্বমেধপর্বে আবার দেখা যায় কুরুক্ষেত্র - যুদ্ধের পর যুধিষ্টিরের অশ্বমেধযজ্ঞের ঘোড়া যখন হস্তিনাপুর অভিমুখে যাইতেছিল তখন সহদেবের পুত্র মেঘসদ্ধি ঘোড়া আট্কাইয়। অজুনের সঙ্গে যুদ্ধ করেন কিন্ত পরাজিত হন। মগধের অস্থররাজবংশ বার বার আর্ধদের রাজচক্রবতিত্বের বিরোধিতা৷ করিতে পম্চাদ্পদ হয় নাই।

বিশ্বিসারের সময়ে রাজগুহ .

পৌরাণিক বর্ণনায় জরাসন্ধের শেষ বংশধর রিপুঞ্জয়ের পর প্র্থোত - বংশ মগধের অধীশ্বর হন এবং প্রস্তোতবংশের পর শিশুনাগ রা'জগৃছের সিংহাসন অধিকার করেন। পুরাণমতে বিদ্বিসার শিশুনাগের বংশধর ছিলেন কিন্তু বৌদ্ধ মহাবংসমতে শিশুনাগ বিশ্বিসারের পরবর্তী যুগের রাজা। বি্বিসারের পূর্ববর্তী পরবর্তাঁ রাজগণের বংশ নাম পৌর্বাপর্য রাজত্বকাল প্রভৃতি বিষয়ে পুরাণ মহাবংসমতে ঘোর বৈষম্য দেখ! যায় এবং আধুনিক এঁতিহাসিকরাও এবিষয়ে সম্পূর্ণ একমত নহেন কিন্তু অধিকাংশ এ্তিহাসিক এখন মহাবংসমতেই বেশি আস্থাবান। তাহাদের মতে খু. পূ. শতকে বাহৃদ্রথ বংশের রাজত্ব শেষ হয়। কাশীরাজ্য তখন খুব প্রতাপশালী; হয়ত অঙ্গদেশ ( আধুনিক ভাগলপুর অঞ্চল) পর্যন্ত কিছুকালের জন্য কাশীরাজ্য বিস্তৃতিলাভ করিয়াছিল। কাশীর ব্রহ্গদত্তবংশীয় একজন অঙ্গাধিপতি হয়ত মগধও জয় করিয়াছিলেন কারণ বিধুরপপ্ডিতজাতকে রাজগৃহকে অঙদেশের নগর বলিয়। উল্লেখ করা হুইয়াছে।

ভট্টিয় নামক মগধের রাজার পুত্র বিধিসার ব্রহ্গদত্তবংশীয় অঙ্গ - রাজকে পরাজিত বধ করিয়া অঙগদেশের রাজধানী চম্পানগরী অধিকার করিয়া সেখানে পিতার উপরাজ (ড্০9:০$) রূপে বাস করেন এবং পিতার মৃত্যুর পর রাজগৃহে আসিয়া মগধের সিংহাসনে আরোহণ করেন। কবি অশ্বঘোষের বুদ্ধচরিত - কাব্যে বিশ্বিসারকে

২০ রাজগৃহ নালন্দা

হ্যংকবংশীয় বলা হইয়াছে। বিদ্বিসার নামের অর্থ ঠিক জানা যায় নাঃ কেহ বলেন তার মাতা! রানী বিশ্বির নামানুসারে এই নাম হয়, কেহ বলেন তার বর্ণ উৎকৃষ্ট হ্ববর্ণের মত ছিল, তাই তাহাকে বিশ্বসার নাম দেওয়া হয়। তিনি শ্রেণীক বা শ্রেণ্য নামেও পরিচিত ছিলেন) এই নামেরও অর্থ স্পষ্ট নয়, কেহ বলিয়াছেন তিনি বহু সৈন্তের অধিপতি হওয়ায় প্র নাম পাইয়াছিলেন। বৌদ্ধদের কাছে রাজগৃহ বিশ্বিসারপুরী নামেও খ্যাত ছিল। বৌদ্ধশাস্ত্রে আছে অঙগদেশ জয় করার সময়ে বিশ্বিসারের বয়স ১৬ বছর ছিল। বিদ্বিসার অজাতশক্রর রাজত্বকালই রাজগৃহের চরমসমৃদ্ধির যুগ। বিদ্বিসারের রাজত্বকালের প্রারস্তে আধুনিক পাটনা! জেলা আধুনিক গয়াজেলার উত্তরাংশ, এই ভূভাগ ছিল মগধের সীমা! | এই সময়ে প্রাচীন সমৃদ্ধ কাশীরাজ্য কোঁশলরাজ মহাকোশল কতৃকি পরাভূত অধিকৃত হয় এবং অঙ্গরাজ্যও মগধের অঙ্গীভূত হয় বুদ্ধিমান বিষ্বিসার নিজের শত্তিবৃদ্ধির জন্য অন্য ক্ষমতাশালী রাজাদের সঙ্গে মিত্রতা বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেন। তিনি কোশলরাজকন্তা কোশলাদেবীকে বিবাহ করেন এবং*এই বিবাহে কোশলরাজ কন্ার স্নানচুর্ণের (স্নানের সময়ে ব্যবহৃত গন্ধপ্রব্যাদির) ব্যয় নির্বাহের জন্ত কাশীগ্রামের রাজস্ব যৌতুকস্বরূপ দান করেন। গান্ধাররাজ পুক্কুসাতির সঙ্গে বিশ্বিসারের পত্রব্যবহার ছিল এবং অবস্তীরাজ প্রচ্চোতের পীড়ার সময়ে প্রগ্যোতের অনুরোধে বিদ্বিসার নিজ চিকিৎসক জীবককে প্রচ্ভোতের চিকিৎসার জন্য পাঠাইয়াছিলেন। পঞ্জাবের মদ্রদেশের রাজকন্যা ক্ষেমা, বৈশালীর লিচ্ছবি - রাজবংশীয়া এক কন্! এবং বিদেহাধিপতির এক কন্তাকেও বিশ্বিসার বিবাহ করিয়াছিলেন

বিশ্বিসারের সময়ে রাজগৃই ২১

বিভির পত্ধীর গর্ভজাত বিদ্িসারের আটটি পুত্রের নাম পাওয়া যায়, তার . মধ্যে অজাতশক্রই ছিলেন জ্যেষ্ঠ অজাতশক্রর মাতা কে ছিলেন সে সম্বন্ধে বু বিভিন্ন কথ। উল্লিখিত আছে, কিন্তু সম্ভব কোশল - রাজকন্যাই তার মাতা ছিলেন। বিদ্বিসার রাঁজকার্ষে স্ুনিপুণ ছিলেন। চুল্লবগ.গে উল্লিখিত আছে যে, তিনি মহামাত্র বা মন্ত্রীদের উচ্চ রাজকর্মচারীদের কাজে তীক্ষু দৃষ্টি রাখিতেন এবং যাহার! কার্ষে সতত! দক্ষতা দেখাইত তাহাদের পুরস্কার করিতেন এবং অসাধু অক্ষমমের পদচ্যুত করিতেন। রাজ্যের গ্রামিকদের (গ্রামের প্রধান ব্যক্তিদের ) লইয়া তার একটা ঝড় রাজসভার কথা মৃহাবগ গে উল্লিখিত আছে।

বৌদ্ধ জৈন সাহিত্যের বর্ণনায় দেখা ষায় সে বুগে রাজগৃহ বহুতরু - পু্পশোভিত বহুঅট্টালিকা - প্রাসাদসমন্থিত বহুজনপুর্ণ অতি সমৃদ্ধ নগর ছিল। অনেক ধনবান শ্রেষ্ঠী প্রভৃতির তোরণযুক্ত প্রাচীরবেষ্টিত গৃহাদদি ছিল। রাজগৃহ ব্যবসাবাণিজ্যের বড় কেন্্রস্থান ছিল। অনেক রাজগৃহবাসী বড় বড় ব্যবসায়ী বাণিজ্যোপলক্ষে সমুদ্রযাত্রাী করিতেন এবং অনেক বিদেশী ব্যবসায়ীরা রাজগৃহে আমিতেন।

নগরে অনেক প্রকার উৎসব হইত এবং কোন কোন উৎসবে লোকে বহু মগ্ভপান মাংসভোজন করিত এবং নানাবিধ নৃত্যগীতাদ্দির অনুষ্ঠান হইত। এইরূপ মেল! বা উৎসবকে 'সমাজ' বলা হইত। একবার কয়েকজন বিদেশী বণিক পণ্যক্রয় করিতে রাজগৃহে আসিয়া নগর উৎসবমত্ত থাকায় কেনাকাটা কিছুই করিতে পারে নাই। এরূপ একটি উৎসবের নাম পালিতে “গিরগগ - সমজজ+ বল! হইয়াছে; গিরগগর শব্দে টীকাকার “যাহা পাহাড়ের উপর হয়, অথবা পাহাড়ের

উপর হইতে দেখিতে হয়” বুঝিয়াছেন, কিন্তু এখানে ইহাতে গিরিয়াক্‌ গ্রাম বুঝান হয়ত অসম্ভব নয়ঃ এখনও কাতিক-পৃণিমায় গিরিয়াক গ্রামে বড় মেলা বসে।

বৈদিকক্রান্ষণ্যধর্ম - বিরোধী এবং অন্ত নানাবিধ ধর্ম দর্শনসন্বন্ধীয় স্বাধীন মতবাদ প্রচারের প্রধানক্ষেত্রও সে যুগে ছিল রাজগৃহ। মহাসকুলদায়ি নামক একজন পরিব্রাজক একবার বুদ্ধকে বলিয়াছিলেন যে, মগধ অঙ্গদেশ বিবিধ - প্রকার ধর্মমতে পরিপূর্ণ মজ ঝিমনিকায় মচাবগ গে উল্লিখিত আছে সম্বোধিলাভের পর বুদ্ধের মনে হইয়াছিল যে, মগধে প্রচলিত বিবিধ দুষিত ধর্মমত আচারের সংস্কার - সাধনই তাহার প্রথম কর্তব্য।

প্রাচীরবেষ্টিত রাজগৃহ নগরের চার দিকে নদী বা পরিখা ছিল। নগরের প্রবেশদ্বারগুলি . সন্ধ্যার পর যখন বন্ধ করা হইত তখন কাহাকেও, এমনকি রাজাকেও নগরে প্রবেশ করিতে দেওয়া হইত না। বিঘ্িসার একবার 'তপোদা সরোবরে ত্বান করিয়া ফিরিবার সময়ে নগরঘার রুদ্ধ দেখিয়া “বেগুবনে” রাত্রি কাটাইয়াছিলেন। বুদ্ধ- ঘোষ প্রবেশদ্বারগুলির সংখ্যা ৬৪ রাজগৃহ-অধিবাসীদের সংখ্যা বহুকোটি বলিয়াছেন। ইহা অত্যুক্তি সন্দেহ নাই। নগরের উত্তর দ্বার হইতে যে রাস্তা বাহির হইয়াছিল তাহা নালন্দা! পাটলিগ্রাম ( এখানেই পরে পাটলিপুত্র নগর প্রতিষ্ঠিত হয় ) এবং গঙ্গার অপরপারে বৈশালী প্রতৃতির দিকে গিয়াছিল। পূর্বদিকের চম্পানগরী প্রভৃতি স্থানে যাইতেও এই পথে রাজগৃহ হইতে বাহির হইতে হুইত। রাজগৃহ নালন্দার মধ্যে খাহ্মত অন্বলট্ঠিকা ( আমমষ্টিকা ) নামে

বিদ্বিসারের সময়ে রাজগৃহ ২৩.

গ্রাম ছিল, ইহাই ছিল রাজগৃহ হুইতে যাত্রা করিয়। প্রথম বিশ্রামস্থান। অন্বলট্ঠিকাতে বিদ্বিসারের একটি “আরাম” বা বাগানবাড়ি ছিল।

বুদ্ধঘোষ বলিয়াছেন .রাজগৃহ “অস্তোনগর” ৰা ভিতরের নগর এবং “বহিনগর” বা বাহিরের নগর, এই দুই ভাগে বিতুক্ত ছিল। গিরিমালাবেষ্টিত নগর সম্বন্ধেই একথ বুদ্ধঘোষ বলিয়াছেন কিনা তা ঠিক বলা যায় না। ডক্টর শ্রীবিমলাচরণ লাহা মহাশয় বলেন যে, বৃদ্ধঘোষ গিরিবেষ্টিত নগরকে “অস্তোনগর এবং তাহার বাহিরের শহরতলি অংশকে ( যেমন উত্তরে বর্তমান [ঘ৪দণ 7০: অঞ্চল প্রভৃতি ) 'বহিনগর” বলিয়াছেন। কিন্তু ডক্টর শ্রীরমেশচক্জর মজুমদার .মহাশয় মনে করেন গিরিমালাবেষ্টিত নগরের দক্ষিণাংশে রাজপ্রাসাদাদি ছিল এবং উত্তরাংশ দক্ষিণাংশের মধ্যে প্রাচীর ছিল। সম্ভব দক্ষিণ।ংশের প্রাসাদ - সমন্বিত ভাগকে বুদ্ধঘোষ অস্তো'নগর উত্তরাংশকে বহিনগর বলিয়াছেন

প্রাচীন নগর সম্পর্কে হিউয়েন ৎসাংও কখন প্রাসাদনগর* কখনও বা গিরিনগরের+ উল্লেখ করিয়াছেন। প্রত্বতত্ব বিভাগ এই ছুই নগরকেই এক মনে করিয়! ভুল করিয়াছেন। ডক্টর মজুমদার দেখাইয়াছেন যে, হিউয়েন ৎসাং প্রাসাদনগর বলিতে গিরিবেষ্টিত প্রাচীন নগরের দক্ষিণাংশ এবং গিরিনগর . বলিতে. ইহার উত্তরাংশ বুঝিয়াছিলেন। হিউয়েন ৎসাং শুনিয়াছিলেন যে, গিরিমালাবেষ্টিত নগরের (এখন যাহাকে 018 দাঁ০: বলা. হয়) নাম ছিল গিরিব্রজ এবং তাহার বাহিরে উততরদিকের নগরকে ( এখন যাহাকে ০: বলা হয়) রাজগৃহ বলা হইত। ফা হিয়েনও 'নৃতন নগর? .

২৪ রাজগৃহ টনি

“পুরাতন নগরের' কথা বলিয়াছেন এবং তিনি শুনিয়াছিলেন যে, নুতন নগর! (মদ চ০:) অজাতশক্রকভৃ'ক নিমিত হইয়াছিল কিন্ত হিউয়েন ৎসাং শুনিয়াছিলেন যে, কেহ বলেন ইহ। বিশ্বিসারনিমিত, কেহ বলেন ইহা অজাতশক্রনিগিত।

ডক্টর লাহা বলেন নুতন” পুরাতন” নগর সম্বন্ধে এই যেসব, জনশ্রুতি চীন! পরিব্রাজকরা শুনিয়াছিলেন তাহা শ্রমপ্রহ্ত -_ পরবর্তী কালে পাটলিপুত্র প্রভৃতি স্থানে একাধিকবার রাজধানী স্থানাস্তরিত হওয়ায় জনম্থৃতিতে এই ভ্রমের উৎপত্তি হুয়, কারণ যেখানে রাজধানী স্থানান্তরিত হইত রাজ! সেখানে থাকিতেন বলিয়া তাহাই যেন “নূতন রাজগৃহ অর্থাৎ রাজধানী হইয়া দাঁড়াইত। ডক্টর লাহার মতে ওক 7০: অঞ্চল প্রাচীন রাজগৃহের সমসাময়িক শহরতলি অঞ্চল ছিল) ইহার পশ্চিমাংশের পাথরের দেওয়ালঘের! এলাকায় সম্ভব রা'জপ্রাসাদাি ছিল এবং পূর্বাংশে প্রাচীরবেষ্টিত সাধারণ লোকের বসতি ছিল (মানচিত্র ২)।

কিন্তু প্রাচীন বৌদ্ধশান্ত্রে রাজগৃছের বর্ণনায় “নূতন নগরের, অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না এবং হিউয়েন ৎসাং যেসব কিন্বদস্তীর উল্লেখ করিয়াছেন তাহাতে মনে হয় বিশ্িসারের রাজত্ব - কালের শেষদিকে অথবা অজাতশক্রর সময়ে 'নৃতন নগর+ নিখিত হয়। অক্সিকাণ্ড বা মহামারীতে প্রাচীন নগর ছাড়িয়া হয়ত রাজা এখানে আবাস স্থাপন করিয়াছিলেন অথবা উত্তরদিক হইতে বৈশালীর লিচ্ছবিদের আক্রমণ প্রতিরোধ করিবার প্রয়োজনে রাজ! এখানে নুতন ুর্গ স্থাপন করিয়াছিলেন।

মস ১০ ১০১০১০১ ১০১১ হে পচ এত ঘুর ক) 5 ৮৯ কি টু

৮৮%-- ০৪

বিশ্বিসারের সময়ে রাজগুহ ২৫

রাজগৃহের পাহাড়গুলি এখন যে নামে পরিচিত, যথা বিপুলগিরি রত্বগিরি ছঠাগিরি ( অর্থাৎ বষ্ঠগিরি ) শৈলগিরি উদয়গিরি সোনাগিরি বৈভারগিরি ( মানচিত্র ১), তাহা! জৈনদের দেওয়া

মহাভারতে এখানকার “পাঁচ” পাহাড়ের নাম একবার বল! হইয়াছে বৈহার (ইহার বিশেষণরূপে পবিপুলঃ শৈলঃ” কথা ব্যবহৃত হইয়াছে ) বরাহ, বৃষভ, খষিগিরি গুতচৈত্যক এবং আর একবার বল! হইয়াছে পাঁগ্ডর, বিপুল, বরাহক, চৈত্যক মাতঙগ।

বৌদ্শাস্ত্রে হাদের নাম পাওব, গিজঝকূট (গৃণকূট ), বেতার (বৈভার ), ইসিগিলি ( খবিগিরি ) বেপুল্প (বিপুল )। :

ডক্টর লাহ৷ সবিশেষ আলোচন! করিয়া সত্যই বলিয়াছেন যে, কিছু কিছু এঁক্য থাকিলেও এইসব বিভিন্ন নামে কাহারা কোন্‌ পাহাড় বুঝিতেন তাহা নির্ণয় করা অতি হুঃসাধ্য। বিভিন্ন যুগে পাহাড়গুলির বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন নামে অভিহিত হুইয়াছে।

প্রত্বতত্ব বিভাগ বলিয়াছেন হিউয়েন ৎসাং যে পাহাড়কে পি - পু- লো বলিয়৷ উল্লেখ করিয়াছেন তাহা আধুনিক বৈভারগিরি কিন্তু ডক্টর মজুমদার ঠিকই বলিয়াছেন যে, হিউয়েন ৎশাং নামে বিপুলগিরিকেই মনস্থ করিয়াছিলেন। বৈভারগিরিতে প্রাপ্ত একটি শিলালিপিতে বৈতার বা বৈহার স্থলে 'ব্যবহারগিরি' নামও পাওয়া গিয়াছে।

এখন যে ছোট পাহাড়টিকে গৃথ্বকূট বল! হয়, ডক্টর লাহার মতে বৌদ্ধরা সম্ভব তার চেয়ে অনেক বৃহত্তর গিরিভাগকে ( অর্থাৎ শৈলগিরি উদয়গিরিকেও) ধী নাম দিতেন। বৌদ্ধদের ইসিগিলি খুব সম্ভব

২৬ রাজগৃহ নালন্দা

আধুনিক সোনাগিরি। ডক্টর লাহার মতে বৌদ্ধদের পাওব - আধুনিক বিপুলগিরি, এবং বৌদ্ধদের বেপুল্প- আধুনিক রত্বগিরি +ছঠাগিরি | রাজগৃছের উঞ্জল প্রত্রবণের উল্লেখ “তপোম” নামে মহাভারতে

আছে। ব্রহ্মার তগস্তাপ্রস্ুত বলিয়া এই নামের উদ্ভব হয় ব্যাখ্যা বোধহয় ঠিক নয়। সম্ভব তপ্ত+উদ। বা উদক) হইতে এই নামের উৎপত্তি হয়। বৌদ্ধশান্ত্রে রাজগৃছের প্রধান জলঝোতের নাম তপোদা) এই জল বাঁধিয়া একটি ছোট হুদ বা পুফরিণী প্রস্তত হইয়াছিল, রাজ! বিশ্বিসার তাহাতে ক্গান করিতেন। ইহার তীরে তপোদারাম নামে বিশ্বিসারের একটি বাগান ছিল।

বুদ্ধ সজ্ঘের জীবনসম্পর্কে বৌদ্ধশান্তে রাজগৃছের অনেক স্থানের উল্লেখ আছে কিন্তু কোন্‌ স্থানটি কোথায় ছিল তাহা সব সময়ে ঠিক বুঝা যায় না।

রাজগৃহে বুদ্ধ মহাবীর

ধ্রতিহাসিকরা বলিয়াছেন যে, বুদ্ধ গয়ায় বোধিলাভ কাশীতে প্রথম ধর্মপ্রচার করিলেও তাহার শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র ছিল রাজগৃহ এবং এখান হইতেই তাহার শিক্ষা অন্য সর্বত্র প্রসারিত হইয়াছিল। বুদ্ধ তাহার প্রধান শিষ্যদের জন্যই রাজগৃহ আজ জগছিখ্যাত। জৈন আজীবিক প্রভৃতি ব্রাহ্মণ্যবৈদিকধর্ম - বিরোধী সম্প্রদয়েরও প্রধান প্রচারক্ষেত্র ছিল রাজগৃহ অঞ্চলে। রাজগৃহ ছিল সে ধুগে স্বাধীন ধর্মদর্শনচিস্তার কেন্ত্রস্থল। বুদ্ধ গৃহত্যাগের পর কপিলবাস্ত হইতে মল্লরাজ্যন্থ (বর্তমান গোরথপুর জেল! ) অগ্ুপ্রিয় নামক স্থানে আসিয়া সন্ন্যাসজীবন গ্রহণ করেন। জাতকে আছে তিনি অস্ুপ্রিয় হইতে সোজ! রাজগৃছে আসেন এবং রাজগৃহ হইতে আলাড় কালাম উদ্রক রামপুত্র নামক গুরুঘ্বয়ের কাছে শিক্ষালাভ করিতে যান। মহাবস্ততে কিন্তু আছে তিনি বৈশালীতে আলাড় কালামের কাছে এবং তারপর রাজগৃহে উদ্রেকের কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেন। ললিত - বিস্তরের কাহিনীও প্রায় মহাবস্তর মত। কিন্তু এই বিষয়ে সবচেয়ে প্রামাণিক প্রাচীন উল্লেখ আছে দীঘনিকায়ের মহাসচ্চকন্ুত্তে ) ইহাতে বুদ্ধের নিজমুখে বলা হইয়াছে যে, তিনি আলাড় উদ্রকের কাছে শিক্ষ। গ্রহণের পর মগধে আসেন।

রাজগৃহেই বুদ্ধ প্রথম ভিক্ষায় বাহির হন। প্রথম তিক্ষায় প্রাপ্ত অন্ন তাহার কাছে এত কদর্য মনে হয় যে, তাহা খাইতে তাহার

২৮ রাজগৃহ নালন্দা

*বিবমিষার উদ্দ্রেক হয়, কিন্তু “আমি সন্ন্যাসী, তিক্ষা প্রাপ্ত অন্লই আমাকে খাইতে হইবে” এই চিন্তা করিয়া! তিনি নিজেকে খঁ অব্ন খাইতে বলপুর্বক বাধ্য করেন। বুদ্ধের ভিক্ষার নিয়ম ছিল এই, তিনি দিনে একবার মাত্র আহার করিতেন) পূর্বাহে সম্বতবেশে তিক্ষাপাত্রহত্তে বাহির হইয়া ,তিনি গৃহস্থের দ্বারে নীরবে নতমুখে দ্ীড়াইয়! তিক্ষা প্রার্থনা করিতেন, একদ্বারে না পাইলে অন্ত দ্বারে যাইতেন। ক্ষুন্িবৃত্তির পক্ষে পর্যাপ্ত ভিক্ষা পাইলেই তিনি আবাসস্থানে ফিরিয়া আসিতেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাহ! পাইতেন তাহাই খাইতেন, কিছু না পাইলে অনাহারে থাকিতেন। প্রথমবার রাজগৃহে আসিয়া তিনি পাগ্ব পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন।

বুদ্ধের নিজমুখে বণিত তপন্তা জীবনের কাহিনীতে উল্লেখ না থাকিলেও বৌদ্ধরা অন্ত্র - বলিয়াছেন যে, একবার বুদ্ধ রাজগৃহ নগরে তিক্ষায় বাহির হইলে বিদ্বিসার প্রাসাদবাতায়ন হইতে পথে বুদ্ধকে দেখিয়া তাঁহার সৌম্য অভিজাত মুর্তিতে আকৃষ্ট হন এবং লোক পাঠাইয়! তাহার বাসস্থানের খোঁজ নেন। এই তিক্ষাটনের সময়ে নিশ্চয় বুদ্ধ নগরের দক্ষিণাংশের রাজপ্রাসাদ এলাকায় গিয়াছিলেন, নতুবা প্রাসাদবাতায়ন হইতে বিশ্বিসার তাঁহাকে দেখিতে পাইতেন না। দক্ষিণাংশের প্রাসাদ এলাকা পাওবপাহাড় ( অর্থাৎ আধুনিক বিপুলগিরি ) হইতে অনেক দূর, বৌদ্বশান্ত্রের বর্ণনায়ও তাই দেখ! যায় যে, রাজার প্রেরিত চরদিগকে বুদ্ধের পশ্চাদস্থুসরণ করিয়া নগর অতিক্রম করিয়া তাহার বাসস্থান পর্যস্ত আসিতে অনেক পথ হাটিতে হইয়াছিল।

রাজগৃহে বুদ্ধ মহাবীর ২৯

বুদ্ধের সৌম্যমৃত্তি অনেককেই আকৃষ্ট করিত। তিনি দীর্ঘদেহ, গ্রশত্তবক্ষ গৌরবর্ণ ছিলেন এবং ধীর দীর্ঘ পদক্ষেপে চলিতেন। চরদের মুখে তাঁর বাসস্থানের খোঁজ পাইয়! বিশ্বিসার পাণ্ৰ পাহাড়ের গুহায় আসিয়া বুদ্ধের সহিত সাক্ষাৎ করেন। বিদ্বিসারের প্রশ্্ের উত্তরে বুদ্ধ নিজের বংখপরিচয় দিয়াছিলেন এবং বলিয়াছিলেন যে, তিনি যে সত্যলাভ করিবার জন্ত ব্যাস গ্রহণ করিয়াছিলেন, তাহা! তখনও লাত করেন নাই। বিশ্বিসার তাহাকে অন্থরোধ করেন যে, তগন্তায় সিদ্ধিলাতের পর তিনি যেন আবার রাজগৃছে আসেন এবং বুদ্ধ ইহাতে সম্মত হন।

প্রথম রাজগৃহে আসিয়া স্থানটি তাল লাগায় বুদ্ধ ভাবিয়াছিলেন "এইখানেই আমার বাসস্থান হইবে, এইখানেই আমি থাকিব”, কিন্ত তাহা হয় নাই। রাজগৃহ হইতে তিনি উরুবেলে গিয়া কঠোর কৃচ্ছ সাধন আরম্ভ করেন এবং তাহাতে প্রায় মৃত্যুমুখে পৌছিয়াও অভীষ্ট সত্যলাভ না হওয়ায় কৃচ্ছ ত্যাগ করিয়া আহারাদি আরম্ভ করেন। বোধিলাভের পর তিনি বারাণসীর খবিপত্তন - মুগোগ্ভানে গিয়া ধর্ম প্রচারের পর আবার গয়ায় আসিয়া সেখান হইতে রাজগৃহে আসেন। ইতিমধ্যে কেহ কেহ তাছার শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়াছিলেন, তাহাদের মধ্যে উরুবেলের কাশ্তুপগোত্রীয় জটিল বা জটাধারী সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্রাহ্মণ ভাতা ছিলেন।

সশিষ্য বুদ্ধ রাজগৃহে আসিয়া নগরের প্রায় মাইল দক্ষিণ - পশ্চিমে লট্ঠিবন (যষ্টিবন, আধুনিক জেঠিয়ান গ্রাম) নামক স্থানে বিদ্বিসারের একটি তালবাগানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। বিদ্থিসার

৩. রাজগৃহ নালন্দা

এখানে আসিয়! বুদ্ধের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া, তাহাকে সসম্মানে অভ্যর্থনা করেন। সেকালের সব রাজাদের মত বিশ্বিসারও সব সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদদের সম্মান করিতেন। জৈনরা বলিয়াছেন বিশ্বিসার মহাবীরতক্ত ছিলেন কিন্তু সম্ভব বিদ্বিসার বুদ্ধেরই বেশি পক্ষপাতী ছিলেন। রাজগৃছের সমুদায় অধিবাসি - পুরঃসর বি্বিসারের মহা! - সমারোহে বুদ্ধকে সম্বধনার যে বর্ণনা বৌদ্ধরা করিয়াছেন, তাহা পরবর্তী কালের ভক্তকল্পনাপ্রহ্ত অতিরঞ্জন।

কিছুদিন পরে লোকজনের বুদ্ধের কাছে যাতায়াতের দ্বিধা হইবে বলিয়া নগর হইতে বেশি দূরও নয়, নগরের জনকোলাহলের বেশি কাছেও নয় এমন একটি স্থান বুদ্ধের বাসের জন্য মনস্থ করিয়া বিশ্বিসার বৃদ্ধের হাতে স্বর্ণভৃঙ্গার হইতে জল ঢালিয়! বুদ্ধ সঙ্ঘের ব্যবহারের জন্য নিজের *বেগুবন - আরাম” নামক উপবন দান করেন। বেণুবনের মধ্যে কলনদক - নিবাপ নামক একটি স্থুন্দর পুফরিণী ছিল।

বুদ্ধ বর্যাকালের চার মাস ছাড়া অন্ত সময়ে স্থান হইতে স্থানাস্তরে ভ্রমণ করিয়া ধর্মপ্রচার করিতেন। যখন কোন স্থানে থাকিতেন তখনও এক জ্ঠায়গায় বেশিদিন .থাকিতেন না, কাছাকাছি নানা জায়গায় কখনও এখানে কখনও ওখানে বাস করিতেন। বেণুবন ছাড়া রাজগৃহের অন্ত যেসব স্থানে তিনি থাকিতেন, তার মধ্যে গৃথকুট ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। বিশ্বিসার প্রায়ই গৃথরকুটে বুদ্ধের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্ত যাইতেন এবং যাতায়াতের স্থৃবিধার জন্ত পাহাড়ের গায়ে রাস্তা প্রস্তত করিয়৷ দিয়াছিলেন। তাছাড়া সপ্তপর্ণা গুহা, শীতবন প্রভৃতি স্থানেও বুদ্ধ কখন কখন থাকিতেন। তাহার

রাজগৃহে বুদ্ধ মহাবীর ৩১

প্রচারজীবনের প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে বুদ্ধ বহুবার রাজগৃছে আসিয়! - ছিলেন।

গৃথ্তকূটে বাস করিবার সময়ে তিনি মধ্যে মধ্যে খবিগিরি, সপিরী নদীতীর ( এখন রাজগৃহ - গিরিমালার পূর্বদিকে পঞ্চনা নামে যে নদী আছে, বুদ্ধের যুগে তাহাই সম্ভব গিরিমালার দক্ষিণে সর্পিণী নামে প্রবাহিত ছিল) প্রভৃতি স্থানে বেড়াইতে যাইতেন। এইসব স্থানে এবং রাজগৃছের গিরিমালার উপরে চারদিকে সেধুগে নানা সম্প্রদায়ের সাধুসক্ক্যাসীদের অনেক আবাস লাধনাস্থান ছিল।

রাজগৃহের সব স্থানের মধ্যে গৃধকূট বেণুবন, বিশেষত গৃথকুট বৌদ্ধজগতের কাছে পরম পবিত্র তীর্থ। নানা বিদেশী বৌদ্ধরা এখানে ভক্তিপ্রুতচিত্তে সাষ্টা্গগ্রণামাদি করেন। বুদ্ধের বহু উপদেশ, কথাবার্তা প্রভৃতির সঙ্গে গৃধকুট বেণুবন ঘনিষ্ঠ জড়িত। বৌদ্বশান্তরে আছে ধনিয় নামক একজন কুম্তকারপুত্র গৃ্ধকূটের পাদদেশে একটি সুন্দর উপবন নির্মাণ করিয়াছিল, অনেক লোক তাহ! দেখিতে আসিত।

যাহার! বুদ্ধের ধর্মপ্রচারে বিশেষ সহায়ত করিয়াছিলেন, এমন শিষ্যদের মধ্যে অনেকে রাজগৃহ অঞ্চলের লোক ছিলেন এবং রাজগৃহেই বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সারিপুত্র মৌদ্‌গল্যায়ন নালন্দার ব্রাহ্ণ বংশে জাত অতি মেধাবী চরিত্রবান লোক ছিলেন। বুদ্ধের শিক্ষা প্রচারে ইহারা বুদ্ধের দক্ষিণহস্ত - স্বরূপ ছিলেন। ইহারা প্রথমে সঞ্জয় বেলট্ঠিপুত্ত ( বৈরাটাপুত্র ) নামক গুরুর শিষ্য ছিলেন। সঞ্জয় সংশয়বাদী অর্থাৎ প্রচলিত সব দার্শনিক মতের সত্যতায় সন্দিহান

৩২ রাজগৃহ নালন্দা

ছিলেন। কথিত আছে যে, অশ্বজিৎ নামক বুদ্ধশিষ্যের কাছে বুদ্ধের কথ! শুনিয়া সারিপুত্র বুদ্ধের শিক্ষায় আকৃষ্ট হন এবং বুদ্ধের সঙ্গে আলাপ করিয়৷ তাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সারিপুত্রের কাছে গুনিয়া মৌদ্‌গল্যায়ন বুদ্ধের শিষ্য হন।

এই ছুই মেধাবী পণ্ডিতের বুদ্ধশিষ্যত্ব গ্রহণে রাজগৃছের অন্থান্ঠ ধর্মসন্প্রদায় সাধারণ লোকের মধ্যে কিছু চাঞ্চল্য উপস্থিত হয়। ভিক্ষুরা পথে বাহির হইলে লোকে একট! ছড়া বলিয়া তাহাদের ক্ষ্যাপাইতে আরম্ভ করে, “মহাশ্রমণ গিরিব্রজে আসিয়াছেন, তিনি সঞ্জয়ের সব শিষ্যদের তাঙাইয়া লইয়াছেন) তারপর তিনি কাহাদের তাঙাইবেন ?” তিক্ষুদের মুখে এই কথা শুনিয়৷ বুদ্ধও আর একটা ছড়া রচনা করিয়া প্রত্যুন্তরে বলিতে তিক্ষুদের শিখাইয়া দেন, “তথাগতরা সন্ধর্ম্ধারা লোককে চালান, ইহাতে কে নিন্দা করিতে পারে?” ভিক্ষুরা এই ছড়া বলিতে আরম্ভ করিলে লোকে তাহাদের ক্ষ্যাপান বন্ধ করে। শাস্ত্রে এই ব্যাপারটি গুরুগন্ভীরতাবে বণিত আছে, কিন্ত ইহাতে বুদ্ধের রসজ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।

ু্ধনির্বাণেক্র কিছু পূর্বে সারিপুত্র মৌদ্গল্যায়নের মৃত্যু হয়। সারিপুত্রের মৃত্যু হয় তার জন্মস্থান নালন্দায়। মৌদ্‌গল্যায়ন একবার যখন খধিগিরি পাহাড়ের গুহায় বাস করিতেছিলেন তখন বিরুদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকে গুণ লাগাইয়া তাহাকে হত্যা করিয়া খণ্ড খণ্ড করিয়৷ কাটিয়া ফেলে। বেণুবনের প্রবেশদ্বারের কাছে মৌদৃগল্যায়নের স্বতিতে স্তপ রচিত হয়। ভক্তিভাজন লোকের গ্ররূপ অপঘাতমৃত্যু বোধহয় অযশঙ্কর বিবেচনা করিয়া পরে বণিত হয় যে, মৌদ্‌গল্যায়ন

রাজগৃহে বুদ্ধ মহাবীর ৩৩

এই আক্রমণ হইতে বাঁচিয়া উঠেন এবং নালন্দাস্লিকটে কোলিকগ্ামে তাহার মৃত্যু হয়।

শ্রাবস্তীর ধনবান শ্রেষঠী অনাথপিগদ ব্যবসা উপলক্ষে রাজগৃছে বৈবাহিক গৃহে আসিয়া বুদ্ধের কথ শুনিয়া তাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সজ্ঘকে অনাথপিগদের বহু দানাদির কথা বৌদ্ধশান্তরে প্রসিদ্ধ সারিপুত্র প্রভৃতির চেয়ে অনেক বয়ঃকনিষ্ঠ যে মহছাকাশ্তপ (ইনি উরুবেলের জটিল কাণ্ঠপ -ত্রাতাদের হইতে ভিন্ন ব্যক্তি) পরে সজ্বের অধিনায়ক হন এবং বুদ্ধনির্বাণের পর রাজগৃছে সম্মিলিত প্রথম ধর্মসঙগীতি (1786 73080010186 0০0010011) ধাঁহার সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়, সেই মহাকাশ্তপও রাজগৃহের ব্রাহ্মণসস্তান ছিলেন। তিনিও প্রথমে অন্য গুরুর শিষ্য ছিলেন। রাজগৃহ হইতে নালন্দার পথে বনুপুত্রকচৈত্য নামক একটি গাছতলায় বুদ্ধের সঙ্গে তাহার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। পিখোল তারদবাজ নামক আর একজন অগ্রগণ্য বুদ্ধশিষ্য এবং সঙ্মের প্রধান বাগ্মী কুমার কাশ্ঠপও রাজগৃহের ব্রাহ্মণসম্তান ছিলেন।

রাজগৃছের বিখ্যাত চিকিৎসক জীবক বিদ্বিপারের আদেশে একবার বুদ্ধের চিকিৎস৷ করিয়াছিলেন এবং বুদ্ধের তক্ত ছিলেন জীবক কোনও গণিকার গর্ভজাত ছিলেন ; কেহ বলেন বিদ্বিসার, কেহ বলেন বিদ্বিসার - পুত্র রাজকুমার অতয় তাঁহার পিতা। জন্মের পর রাজপথে পরিত্যক্ত হইয়া তিনি রাজকুমার অতয় কতৃক প্রতিপালিত হন এবং এইজন্য তিনি কুমারভূত্য নামে পরিচিত ছিলেন। তাহার চিকিৎসাদক্ষতার অনেক গল্প বৌদ্ধশান্ত্রে উল্লিখিত আছে। বুদ্ধের একবার উদরশূল

৩৪ রাজগৃহ নালন্দা

রোগের চিকিৎসায় তাহার স্ুকুমারপ্রক্কৃতি বুঝিয়া জীবক নীলপদ্পের পাঁপড়িসহ ওঁষধ তাঁহাকে খাইতে দেন। অবস্তীরাজ প্রদ্যোতের চিকিৎসা করিয়া জীবক একখানি মহার্ধবপ্্র উপহার পাইয়াছিলেন, তাহা তিনি বুদ্ধকে দান করেন এবং ইহাই বুদ্ধকে প্রথম বন্ত্রদান। জীবকের একটি বড় আমবাগান ছিল, তাহাও তিনি বুদ্ধ সঙ্ঘকে দান করেন। ইহা! জীবকাঅবন নামে খ্যাত; বুদ্ধ এখানেও মধ্যে মধ্যে থাকিতেন। |

সজ্ঘে নারীদের প্রবেশে বুদ্ধ অন্থুমতি দিলে বিদ্বিসার - মহিষী ক্ষেমা প্রমুখ রাজগৃছের অনেক ভদ্রমহিল! ভিক্ষুণী হইয়াছিলেন। ভিক্ষুণী মৈত্রিকা শুভা রাজগৃহের ব্রাহ্গণকন্তা ছিলেন ; ভদ্র! কুগুলকেশ।! থেরী ( স্থবির! ) হইবার পর. কিছুদিন গৃথকূটে বাস করেন। সারিপুত্রের ভগিনী চালা উপচালা শিশু - উপচালাও ভিক্ষুণী হুইয়াছিলেন বলিয়৷ বণিত আছে, কিন্তু শেষোক্ত নামদয় সম্ভব কাল্লনিক।

সজ্বের তেদও . আরম্ভ হয় রাজগৃহে। বুদ্ধের জ্ঞাতিভ্রাতা শিষ্য দেবদত্ত বুদ্ধের “মধ্যপথ” অপেক্ষা কৃচ্ছ সাধনের বেশি পক্ষপাতী ছিলেন এবং ভিক্ষুদের গৃহস্থগৃহে নিমন্ত্রগ্রহণ, তিক্ষাপ্রাপ্ত আমিষ ভোজন, বৃক্ষতল ছাড়! অন্যত্র বাস প্রভৃতির বিরোধী ছিলেন। এই সব বিষয় লইয়া বুদ্ধের সঙ্গে তাহার মতান্তর হয় এবং তিনি সজ্ঘের নেতৃত্ব করিতে চাহিলে বুদ্ধ তাহাতে দৃঢ় অসম্মতি জানান। তখন দেবদত্ত সঙ্ঘ ত্যাগ করিয়া ভিন দল গঠন করেন

স্ব সংক্রান্ত আরও অনেক ঘটন| রাজগৃহে ঘটে) তাহা রাজগৃহ অপেক্ষা সত্যের, ইতিহাসেই বেশি প্রয়োজনীয় বলিয়া এখানে

রাজগৃছে বুদ্ধ মহাবীর ৩৫

তাহার আলোচনা! নিশ্রয়োজন। বুদ্ধ একবার সব শিষ্যদের রাজগৃছে ডাকিয়! সঙ্মের হিতার্থক কতকগুলি নিয়ম প্রবর্তন করেন। রাজগৃহ যে বুদ্ধের প্রিয়স্থান ছিল তাহাতে সন্দেহ নাই। দীঘনিকায়ে রাজগৃহের প্রায় প্রত্যেকটি স্থান সম্বন্ধে বুদ্ধের মুখে “রমণীয়” বলা হইয়াছে।

বিদ্বিসারের জীবনকালে অজাতশক্র অঙ্গরাজ্যের উপরাজ! ছিলেন। বিশ্বিসার বুদ্ধতক্ত ছিলেন বলিয়া বোধহয় পিতৃদ্বেবী অজাতশক্র বুদ্ধবিরোধী ছিলেন এবং দেবদত্তও সম্ভব অজাতশক্রকে বিষয়ে প্ররোচিত করেন। একবার বুদ্ধ ভিক্ষায় বাহির হইলে দেবদত্তের প্ররোচনায় অজাতশক্র মাতাল হাতি লাগাইয়া বুদ্ধকে বধ করিবার চেষ্টা করেন, কিন্তু বুদ্ধ মৈত্রীবলে হাতিকে বশ করিয়াছিলেন। আর একবার বুদ্ধ যখন গৃকুটশিখরে পদচারণা করিতেছিলেন তখন দেবদত্ত উপর হইতে পাথর গড়াইয়া ফেলিয়৷ তাহাকে মারিবার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেই পাথর অন্ত পাথরে আট্কাইয়া ভাঙিয়া যায় এবং ভাঙা পাথরের টুক্রায় বুদ্ধের আঘাত লাগায় তিক্ষুরা বুদ্ধকে মঞ্চশিবিকায় (36:96০%9:) করিয়। প্রথমে মদ্দকুচ্ছিতে পরে জীবকারামে লইয়। যান। “মদকুচ্ছি” নামের উদ্ভব সম্বন্ধে বিস্ব্তী আছে যে গর্ভস্থ সন্তান পিতৃহস্তা হুইবে জানিয়৷ অজাতশক্রর মাতা এই উদ্ভানে গিয়। কৃত্রিম উপায়ে 'কুক্ষিমর্দনি, দ্বার! গর্ভপাত করাইবার চেষ্টা করেন, কিন্তু ডক্টর লাহা মনে করেন মদ্দকুচ্ছি - শব্দ সংস্কত 'অদ্রিকুক্ষি শব্দের অপত্রংশজাত, অর্থাৎ যেস্থান পাহাড়ের পেটে ( পাহাড়ঘেরা জায়গায় ) অবস্থিত।

৩৬ রাজগৃহ নালন্দা

বিনয়পিটকে উল্লিখিত আছে অজাতশক্র একবার তরবারি