মাটআনী-সংস্করণ কোতিঙ্ুর গ্রন্থাবলী নং

ভ্নাক্ডিকত্ভাল্ জাজ 7 ল্ ভক্ত?

[-

. বষ্টমান বঙ্গসাভিতোর গতি নির্ণর সমটলেচনা 1-

শ্রীবতীন্দমোহন সিংহ কবিরঞ্জন প্রণীত

ভট্টাচার্য্য সন. কলিকাতা, ঢাকা ময়মনসিংহ

মূল্য ॥০ আট আনা

কলিকাতা ৬৫নং কলেজ স্ট্রীট, ভষ্টাচাধ্য এও সন্এর পুস্তকালয় হতে শ্রীদেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্ধা বর্তৃক প্রকাশিত এবং

১০৮ নং নাব্রিকেলডাঙ্গ। মেন রোড, স্বর্ণ পরস্যে

শ্রীশ্রীদর্গা শরণম্‌

উৎসর্গ পত্র

পাপাাস্স্ততীীশি

সৎস্হিত্যানুরাগী প্রাণাধিক পুত্র আমান্‌ হ্ররেন্দ্রমোহন সিংহের হস্তে অর্পণ করিলাম

শ্রীফতীন্দ্রমোহন সিংহ

কষ্ণচনগর ৩০শে ফাল্গুন ১৩২৮

পূর্ববাভাষ

গত ১৯১৯ সনের জুলাইমাসে 'আমি জলপাইগুড়ীতে গিয়! ুহবদ্বর স্বগগীয় স্থরেশচন্র সমাজপতি মহাশয়ের একখানা পত্র পাই তাহাতে লেখা ছিল, “সময় মত “দাহিত্রে”্র জন্য কিছু পাঠাইবেন। ব্তমান সাহিতো শ্রীলতার শ্রাদ্ধ হইতেছে। মামিকপত্র প্রকাশিত উপন্তাস কবিতাপ্ধি উপলক্ষ করিয়া বদি সাহিত্যে নীতি ধর্মের অপরিহারধ্যতা। প্রতিপন্ন করিয়৷ ছোট ছোট প্রবন্ধ লেখেন, তাহা হইলে যথেষ্ট উপকার হইতে পুরে। আপনি এই কারোর সর্ববাংশে স্যোগা পাত্র। ইহাইত আপনার জীবনের ব্রত।” আমি স্বর্গীর বন্ধুর এই উ্চপ্রশংসার পর্ণ অহ্থুপধুক্ত হইলেও, তাহার এই পত্র খানিই আমাকে এই প্রবন্ধটি লেখায় প্রবর্তিত করিয়াছিল। পরে ইহা ১৩২৭ সালের “সাহিতা” পত্রে “সাহিত্যে স্বাস্ারক্ষা” নামে প্রকাশিত হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, প্রবন্ধটি ছাপা শেষ হওয়ার পূর্বেই স্রেশচন্ত্র আমাদিগ্ুকে শোক-সাগরে ভাদাইর। পরলোক গমন করেন। তাহার সহাম্তভৃতিপূর্ণ প্রেরণা না পাইলে এই প্রবন্ধটি লেখ হইত কি না সন্দেহ। সেই জন্ত তাহার পরলোকগত আত্মার উদ্দেশ্তে আমার হৃদয়ের কৃতজ্ঞত| জানাইতেছি।

সাহিত্যে প্রকাশিত প্রবন্ধটি পাঠ করিয়া সুপ্রসি্ধ সমালোচক রক্ত রায় বাহাদুর দীননাথ সান্যাল, শ্রীযুক্ত রায় বাহাদুর যোগেশ নর রায় বিদ্যা নিধি, শ্রীযুক্ত ললিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভৃতি অনেক

7 ৮* ]

সহৃদয় বন্ধু আমাকে তাহাদের অভিমত জানাইয়া উৎসাহিত করিয়াছেন তাহাদের উৎসাহেই প্রবন্ধটি পুস্তকাকারে প্রকাশিত স্ল। সেজন্য আমি তাহাদিগকে আস্তরিক ধন্বাদ জানাইতেছি। পরিশেষে তন্ববোধিনী-পত্রিকার সম্পাদক, প্রথিতনাম সাহিত্যিক শ্রীযুক্ত ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর তত্বনিধি মহোদয় স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া আমাকে লেখেন, “আপনার সাহিত্যে স্বাস্থ্যব্রক্ষা আমি বড়ই যত্বের সহিত পড়িয়া থাকি এবং আপনার বক্তবোর সঙ্গে আমার এঁকমত্য আপনাকে জানাইয়াছিলাম, বোধ হয় স্মরণ থাকি পারে। এখন আপনার প্রবন্ধটী শেষ হইয়া! গিরাছে__ আশা! করি পুস্তকাকারে মুদ্রিত করিবেন_ দেশের মঙ্গল হইবে আমিও আপনার সঙ্গে এক- হৃদরে প্রার্থনা করি__“ভগবান্‌ আমাদিগকে সেই গৃহের স্ুথ সম্পত্তি পবিত্রতা রক্ষার সুবুদ্ধি প্রদান করুন।”” ক্ষিতীন্দ্র বাবুর এই অযাচিত কৃপায় আমি তাহার নিকট চিরকরুতজ্ঞ থাকিব পৰে তিনি অনুগ্রহ প্রকাশে এই পুস্তকের প্রুফ সংশোধনের ভার গ্রহণ করিয়া আমার মহোপকার সাধন করিয়াছেন। কেবল ইহাই নহে। তাহার লিখিত একটি ভূমিকা দ্বারা এই পুস্তকের শিরোভাগ অলম্কত হইল। এখন প্রার্থনা করি, ভগবান্‌ এই পুস্তক প্রকাশের উদ্দেন্তা সফল করিয়৷ আমাদের সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করুন। ইতি

শ্রীতীন্দ্রমোহুন সিংহ

ভূমিকা

আজ ক-য়ক মাস হইল, এই গ্রন্থখঞ্কনি খন গ্রন্থকার ধারা- বাহিক প্রবন্ধের আকারে “সাহিত্যে” প্রকাশ করিতেছিলেন, সেই সময়ে প্রবন্ধ গুলি পাঠ করিয়া যে আরাম আনন্দ অনুভব করিরাছিলাম, একমাত্র পৃতিগন্ধপুর্ণ গৃহে সহস। স্থুবিমল প্রভাতবাযু প্রবেশ করিলে যে আরাম আনন্দ পাঁওয়। যার, একমাত্র তাহারই সহিত উহার তুলন হয়। তাহার প্রবন্ধগুনির মধ্যে একটী আমার এতই ভাল লাগিয়াছিল ঘে* লেখকের সহিত তখন আমার পরিচয় না থাকিলেও আমি উপবাচক হইয়া তাহাবু মতের সহিত আমার মত যে মোটের উপর সম্পূর্ণ এক এবং তীহার প্রবন্ধ প্রকাশে আমার যে খুবই আনন্দ হইয়াছে তাহাই তাহাকে জানাইয়াছিলাম। আমার আনন্দের একটী বিশেষ কারঞ্জ ছিল এই যে, আমি যে কার্ষযের জন্য প্রস্তুত হইতেছিলাম, সেই কার্য্যের ভার আম। অপেক্ষা যোগ্যতর ব্যক্তি স্বৃহস্তে গ্রহণ করিয়াছেন দেখিলাম ষাহাই » হউক, এই সুত্রে পত্রব্যবহারের ফলে আকাৰে ক্ষুদ্র কিন্তু বিষয়ে গুরু এই গ্রন্থের একটী ভূমিকা লিখিবার ভার আমার ন্যায় রূসবোধবর্জিত ব্যক্তির হস্তে সন্নান্ত হইয়াছে তাই এইখানে বলিয়া রাখা আবশ্তক মনে করি যে, এই ভূমিকা লিখিবার জন্য

[%০

উপন্যান সাহিতোর যে পরিম।ণ গান থাঁকা আবন্তক, সে পরিমাণ জ্ঞান আমার নাই

এ: ততটা জ্ঞান না থাকিলেও যখন অবসর পাওয়া গিয়াছে, তথন সংক্ষেপে গ্রন্থোক্ত বিষয় সম্বন্ধে আমারও ছুইচারিটী বক্তব্য না বলিয়াই বা থাকি কি প্রকারে? পূর্বেও বলিয়াছি এবং আবারও বলিতেছি যে, এই গ্রন্থপ্রকাশের কারণে আমার খুবই আনন্দ হইয়াছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে প্রত্যেক দেশহিতৈষীরও ইহাতে 'নিশ্য়ই আনন্দ হইবে। আজকালকার উপন্টানসমূহে থে অশ্লীলতা অস্বাভাবিকতা একধের়ে স্রোত টলিতে আরম্ত করিয়াছে, এই গ্রন্থ সেই স্রোত কিরাইবার মুখে প্রথম খুটি বসাইল, ইহাই হইল আনন্দের কারণ। এই গ্রন্থের দার৷ গ্রন্থকার দেশের একটা অভাব মোচন করিয়াছেন। এই সকল অশ্লীল উপন্তাস নানা কারণে অনেকেই পড়েন বটে; কিন্তু এই অশ্লীলতার ধার এদেশে প্রবাহিত হইবার অল্পকাঁলের মধ্যেই সৌভাগাক্রমে এদেশের চিন্তাশীল ব্যক্তিদের অন্তরে পুত্রকন্তাদের ভবিষ্যুৎ ভাবিয়। একট। আতঙ্ক উপস্থিত হইল। সেই আতঙ্কের কারণে তাহার এই প্রকার উপন্তাম প্রকাশের বিরুদ্ধে আপত্তির জল্পনা-কল্পনা করিতে লাগিলেন-_অশ্রীলতাৰিরোধী ভাব দেশের মধ্যে অন্তঃসলিলভাবে তরঙ্গিত হইতে লাগিল। গ্রস্থকারই সর্ব. প্রথম সেই অব্যক্ত ভাবকে গ্রন্থবদ্ধভাবে বাক্ত আকার প্রধান করিয়া সংসাহসের পরিচয় দিয়াছেন সনেহ নাই। হাঁকিমির হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের ভিতরেও যে গ্রন্থকার এবিষয়ে

[ 8৬. ]

হস্তক্ষেপ করিয়াছেন, ইহাতে তাহাকে হন্তবাদ না! দিশা থাকা ধায় নী।

মোটামুটি হিসাবে বলিতে পারি ধে, গ্রস্থকারের মুল বঞ্তব্য বিষয়ে তীহার লহিত আমি সম্পূর্ণ এফমত। আর্টের দৌহাই দিক্লাই হউক বা ধাহারই দোহাই দিয়া হউফ, কাম প্রভীতি যে সফল মনোধৃত্তি ভগবংবিধানে স্বভাবতই প্রবল এবং যে খৃত্তিগুলি প্রথলতর হইলে মনুষ্যত্ব ন্ট করিয়া মানুষকে পণ্ুডর সহিত একই স্তবে আনিয়া ফেলে, সেই সফল বৃত্তি প্রধলতর করা কোন কৃত্রেই সঙ্গত হইতে পারে লা। সাধু ৰাক্তিকে চোর ৰলিতে বলিতে সাধুও চোর হইয়া পড়ে এবং (চোরকে সাধু বলিতে বলিতে চোরও সাধু হয়, এইন্সপ একটি গতীন্র অর্থপূর্ণ প্রবাদ আছে। এরই প্রাধাদ অন্ুপরণ করিয়া আমরা! বলিতে পারি যে, মানুষের সুখে মগাভাবের অসংব্ষয়ের চিত্র ধরাই উচিত দয়, সাধুভাবের কল্যাথকর বিষয়েরই চিত্র প্রত্যেক মাঁনবহিতৈষীর অঙ্কিত কথা উচিত। ব্ধিম বাবু তাহার বিদ্ধ পরিণামে সাধুতার জক্গ দেখাইয়াছেন বণিয় ্রস্থকার তাহাকে নৃানাধিক সমর্থন করিয়াছেম। পরিপাদে সাধুতার জয় দেখাইলেও সমস্ত গ্রন্থ পাঠের ফলে মনের উপর যে অপাধুতা বিষধৃক্ষের একট! ছাপ পড়ি বায়, তাই! ীকার করিতে পায়া ধার না। তাই এবি প্রন জষ্টি আম! তীহাকেই দোষী করিখ। . বর্তমানে অনেক শ্রেষ্ঠ উপন্ামলেখক থে বস্কিক বাবুর

৮:

পরিবধ্ধিতি আকার দিয়াছেন, তাহা না মানিলে চলিবে না। মনস্তত্বের নামে তাহার! এই সকল পৃতিগন্বপূর্ণ বিষবৃক্ষ গৃহে গৃহে “রোপণ করিরা কি যে অনিষ্ট সাধন করিতেছেন, তাহার নান! কারণে তাহ। অনুভব করিতে পারিতেছেন ন! বলিয়াই মনে হয়। ্রস্থকার বেশ দেখাইয়াছেন যে, এই আলোচ্য উপন্তাগুলির অনেকগুলিতে কেবল অশ্লীলতা জাগিয়া নাই, অস্বাভাবিকতাও অতিমাত্রায় জাগ্রত। গ্রন্থের পরিসর অল্প বলিয়! গ্রন্থকার বিস্তৃত- ভাবে এই অস্বাভাবিকতা খুলিয়৷ দেখান নাই বলিয়া আমার বিশ্বাস। কিন্তু মনে হয় বে আর একটু খুলিয়৷ বলিলে ভাল হইত! তেরো! বরের বালিকার মুখে যে ফমস্ত কথা বলানে। হইয়াছে, সেরূপ কথ বাহির হওয়া একেবারেই অস্ন্তব। ছুদিনের আলাপে আগন্তক ব্যক্তির মুখে ভদ্রমহিলাকে যেরূপ অভদ্র ভাষায় সম্বোধন করানে হইয়াছে, নেরূপ ভাষায় সম্বোধন কর৷ সম্পূর্ণ অসম্তব। গ্রন্থকার আরও কয়েকটা বিষয় ইঙ্গিত করিয়াছেন এই ভূমিকাতে সকলগুলি আলোচনা কর যুক্তিসঙ্গত নহে); আমরা কৌতুহলী পাঠককে সমস্ত গ্রন্থটী অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করিতে অনুরোধ করি। গ্রন্থকার সার্বভৌমিক সত্যের ভিত্তিতে এই সকল উপন্তাসের অসারতা অনিষ্টকারিতা দেখাইয়া বিশেষ উপকার করিয়াছেন।

_ একটা বিষয়ে তাহার সহিত আমি একমত হইতে পারি নাই। তিনি বাল্যবিবাহকে খষিপ্রবর্তিত প্রেমরোগের অর্থাৎ পুর্ববরাগ প্রভৃতির প্রতিষেধক বলিয়াছেন। বাল্যবিবাহ খষিপ্রবর্তিত কি না, সেবিষয়ে সকলে একমত নহেন। দ্বিতীয়ত বাল্যবিবাহ যদি প্রেম-

|// ]

রোগের প্রতিষেধক হইত, তবে যে সময়ে বাল্যবিবাহ খুবই প্রচলিত ছিল, সে সময়েও বৈষ্ণব কবিগণ পূর্বরাগ, পরকীয়া প্রেম, প্রভৃতির পূর্ণ সতত! উপলব্ধি করিলেন কিরূপে? আবার সীওতাল প্রভৃতি জাতির মধ্যে যৌবনবিবাহ প্রচলিত থাকিলেও তাহাদের মধ্যে তো সকল ভাবের অস্তিত্ব দেখ! যায় না।

আমাদের মনে হয় যে, প্রেমরোগের প্রতিষেধক একমাত্র ্ঙ্ধচর্য্যে প্রতিষ্ঠা, আমরা যদি বাল্যকাল অবধি পুত্রকন্গাগণকে সঙ্গত উপায়ে ঘত্বপুর্বক ব্্চর্য্যের উপর দীড় করাইতে বত্ববান হই শিক্ষা দিই, তাহা হইলে দেখিব বে এক পুরুষের অন্তরন্তী সময়েই প্রেমরোগ অন্তঠিত হই'বৈ এবং অশ্লীল অস্বাভাবিকতাপূর্ণ উপন্তাসপাঠে তাহাদের মতিই হইবে না। জুহৃদ্বর বতীন্ত্র বাবুর গ্রন্থ বর্তমানে প্রকাশিত অধিকাংশ উপন্তাসের যথার্থ প্রকৃতি সর্ক- সমক্ষে উদবাটিত করিয়া, আশ! করি, দেশের লোককে নিজের মঙ্গলের জন্য না হইলেও অন্ততঃ পুত্রকন্াগণের মঙ্গলের জন্ত এই সকল উপন্ত!স পাঠে বিরত করিবে এন্লুং প্রাচীন খবিদের প্রবস্তিত গচর্ধ্য এদেশে পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্ত উৎসাহিত করিবে।

সকল কল্যাণের আকর ভগবানের নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা কৰ্বি যে, তিনি গ্রস্থকাবের সাধু উদ্দেন্ত সফল করুন।

৫1১ বি, বারাণসী ঘোষের সেকেগ্ড লেন, যোড়াসাকে। শ্রীক্ষিতীন্্রনাথ ঠাকুর কলিকাতা ১২ই চৈত্র ১৩২৮

শ্রীতীন্রমোহন সিংহ কবিরঞ্জন প্রশীত

অন্যান্য পুস্তক |

১1 ফ্রুৰতার! ( উপন্তাস ) | | (৭ম সংস্করণ 9 ২২. অনুপ্রমা ( উপন্াস ) (২য় সংস্করণ ) ২২: শত তোড়া (সরল সমাজ-চিত্র সমালোচনা রী

রর (২য় সংস্করণ) 00৩ ৪1 তগস্তা (জাতীয় জীবন প্রতিষ্টা উপায় নিরূপণ)

বঙ্গভাষায় অদ্ধিতীয় রব সম্পূর্ ৬৫ ধরণের উপঙাস

:₹1 উত্ভিষ্ঠা চিত্ত (দস মহ)

্নাহ্ছিতভি লস আান্জ্রযব্রজ্কা।

687৬

মানবদেতের সুস্থ তা গ্রধানতঃ ছুইটি জিনিসের উপর নিভর করে-_ পুষ্টিকর আহার.৪"নিম্মাল বাধু। স্থাস্থাবিজ্ঞানবিৎ পঞ্ডিতগণ দিদ্ধান্ত করিয়াছেন, রোগের বীজাণুসকল আমাদের আহার্ধা দ্রবা, পানীয় জল ব৷ পাশ্ববর্তী বাধুর মধ্য দিয়া আমাদের দেহে প্রবেশ করিয়া রোগোত্পাদন করে। কলেরার বীজ পানীয় গল দুপ্ধের মধ্য দিয়া প্রবেশু করে : ক্ষয়কাসের বীজাণু ধুলিধুমাচ্ছন্ন দূষিত বায়ুর মধো বাস করে এবং নিশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে আমাদের দেহে প্রবেশ করে। ম্যালেরিয়ার বাহন হইতেছে মশা, যাহা নিতান্ত অলঙক্ষিত- ভাবে তাহার শুড় দিরা আমাদের ব্রক্তের সহিত তাহার গ্রীতি- সম্বন্ধ স্থাপন করে মাবার সংপ্রতিআর একটি রোগ আবিষ্কৃত হইয়াছে_যাভার নাম 1)901:%0110 অর্থাৎ বক্ররুমি | ইনি মাটার মধ বাস করেন, আর আমাদের পদতলের মধ্য দিয়া অন্ব- নালীর ভিতরে প্রবেশ করিয়া পরিপাকশক্তির বাঘাত জন্মান। এই বক্রকমিই নাকি বাঙ্গালীর নির্জীবতার প্রধান কারণ

বাহা হউক এই সকল ভিন্ন ভিন্ন রোগের বীজাণু হইতে মনুযাদেভকে রক্ষা করা বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের প্রধান

সাহিত্যের ল্দাস্থারক্ষ।

অন্নসন্ধিৎসার বিষয় হইয়াছে প্রেগ, বসন্ত, কলেরা প্রভতি কতকগুলি রোগের প্রতিষেধক বীজ আবিক্কত হইয়াছে, সেগুলি দপরা টাকা] দিলে সকল রোগের হাত হইতে নিঙ্কাতি পাওয়ার বিশুদ্ধ জলবাবু-সেবনই সর্বপ্রকার রোগের প্রতিষেধক বলির? অবিসংবাদিতরূপে প্রতিপন্ন হইয়াছে ইহাই শারীর স্বাস্থাবিধানের মূলমন্ত্র

শরীরের ন্যার আমাদের মনেরও স্বাস্থারক্ষার প্রয়োজন | 508 17681011001) 8 00681050০৭১৮- স্তস্ত শরীরে সুস্থ মন লইয়া! বাঁস করা সাধারণ 5ঃ মন্টবাত্বের আদশ। শরীরের ্ান্স মনের স্বাস্থাও পুষ্টিকর আহাধ্া এবং বিশুদ্ধ আবহাওয়ার (907)051)1)679) উপর নিভর করে। মনের স্টে আহাষ। কি? না জ্ঞানের বস্তু; আর তাহার আবহাঞ্রা কি? না সমাজের পারিপার্থিক অবস্থা আমরা টক্ষকণাদি ইন্দিয় দ্বার জ্ঞানের বস্তসকল আহরণ করি, মন সেহগুলিকে আত্মসাং (85511711206 ) করিয়। লইয়া নিজের পুষ্টিসাধন করে আমা দের শিক্ষীপ্রণালী সেই পরিপাক-ক্রিয়ার সাহাব্য করে। জ্ঞানের বস্তু যেমন মনের আহার যোগাইয়৷ তাহার পুষ্টিসাধন করে, সেইরূপ বিশুদ্ধ পারিপার্থিক অবস্থা তাহাকে রোগের হস্ত হইতে রক্ষা করে। প্রারিপার্থিক অবস্থার বিশুদ্ধতা রক্ষা করিবার জন্য সংসঙ্গের একান্ত প্রয়োজন কিন্ত আমরা সর্ধদ। ইচ্ছানুরূপ মানুষের সঙ্গলাভ করিতে পারি না। আবার আমরা যে সকল লোকের সংসগে

সাহিতোরু স্বাস্থ্যরক্ষা |

বাস করি, অল্পদিনের মধোই তাহাদের নিকট নৃতন কিছু শিক্ষালাভ করিবার থাকে না। আমাদের মন সর্কধদাই নৃতনত্বের জন্য লালায়িত। সাহিত্য আমাদের সেই অভাব পূরণ করে। সং" নাভিতা আমাদিগের চতুঃগার্খে একটা স্বাস্থাকর আবহাওয়ার সৃষ্টি করিয়া আমাদিগের মন সুস্থ রাখে আবার তেমনি অসৎ সাহিতা একটা দূষিত আবহাওয়ার স্ুট্টি রিয়া আমাদিগের নানা প্রকার মানসিক বাধির উত্পাদন করে *

বাঙ্ষম বাবু শ্ঠাহার “্ধন্মতত্ব” গ্রন্থে দেখাইয়াছেন, আমাদের মানসিক স্বাস্থা প্রবৃত্তি কুপ্রবৃত্তি সকলের মধো সামঞ্জন্ত দ্বারা াক্ষত হইয়া থাকে সেই স্মমঞ্জন্তের অভাব হইলেই মানসিক বাধির উৎপত্তি হয়। সেই সামঞ্ন্ত বিধানের জন্য মনোবুত্তি সকলের উপ্নধুক্ত অন্ধালন (০৮18:5) আবশ্তক আমাদের কতকগুলি মনোবুত্তি স্বভাবতঃ অত্যন্ত সতেজ থাকে, আবার কতকগুলি স্বভাবতঃ নিস্তেজ থাকে সাধারণত: আমাদের কাম ক্রোধাদি রজোগুণ-সমুদ্ভূত প্রবৃত্তিগুলি স্বভাবতঃ প্রবল, আর দয়া ক্ষমা ভক্তি প্রীতি প্রভৃতি সত্বগুণ-সমুদ্ূত প্রবৃত্তিগুলি ততদূর প্রবল নহে। সুতরাং মনোবুত্তির অন্ুণীলনের অর্থ, বে সব কুপ্রবুভ্তি স্বভাবতঃ গ্রব্ল, তান্তদিগের জোর কমাইয়া, সংপ্রবুত্তি সকলকে *বদিত করা তবে কোনে প্রবৃত্তিকিই সমূলে উৎপাটন করা! অনুশীলনের অর্থ নহে, তাহা মনুষ্য শরীরে সম্ভবপরও নহে এরূপ দেখা যার অনেক সংপ্রবৃত্তিও অতান্ত বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া মানসিক ব্যাধির উৎপাদন করে--যেমন অতাধিক দয়৷ দ্বারা কত দাত৷

সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা

সর্বস্বান্ত হইয়াছেন। যাহা হউক, যেমন সংসাহিত্য আমাদের সুপ্রবৃত্তি অনুশীলনে সাহাধা করে সেইরূপ অসৎসাহিত্য কুপ্রবৃত্তির শ্মত্যধিক উত্তেজন। দ্বারা মানসিক সামগ্রস্ত নষ্ট করিয়া মানসিক ব্যাধির উৎপাদন করে। এবিষয়ে সমগ্র সাহিতা-মধ্যে কাবোর প্রভাব অত্যন্ত অধিক

মনোবিজ্ঞানে আমাদের মানসিক বুভ্তিগুলিকে তিনশ্রেণাতে বিভক্ত কর হইয়াছে জ্ঞানশান্ত (1079/15026 ), অন্তভব- শক্তি (6০11)5 ) আর ইচ্ছাশক্তি (111176 ) 1, জ্ঞানশক্তি বিবিধ তথা সংগ্রহ দ্বারা আমাদিগকে বাহাজগতে বিচরণের জন্য বরিকা- হস্তে পথ দেখাইয়া দেয়, অন্ুুভবশক্তি, সুখদুঃখাদির বোধ জন্মাহয়া আমাদের কন্মপ্রবুত্তি জাগ্রত করে, আর ইচ্ছাশক্তি সেই সকল আকাজ্ষা পরিতৃপ্তির জন্ত আমাদিগকে বিষয়াভিযুখে, পরিচালিত করে। আমাদের জীবনরূপ বাম্পীয় পোতের জ্ঞান হইতেছে দিগ্দর্শন যন্ত্র (০9101)১৯ ), অন্ুভবশক্তি হইতেছে বাষ্প (১1৩৭) 0০৮০), আর ইচ্ছাশক্তি হইতেছে পরিচালন-যন্ত্র (17815 ), স্থুতরাং আমাদের প্রবৃভিমায্ণ পরিচালনের জন্য অন্ুভবশক্তিরই গ্রাধান্ত স্বীকার করিতে হইবে

যেমন দর্শন বিজ্ঞানাদি শাস্ত্বাধ্যয়ন দ্বারা কৃদ্ধিবৃত্তি পরিপুষ্ট হয়, তেমনি কাব্যান্ুণীলন দ্বারা আমাদের অন্ুভবশক্তির বিকাশ হয় যে কারণে মাঁনবমনে অনুভবপ্রবৃত্তির '্রীধান্ত, সেই কারণে সাহিত্জগতে কাব্যের স্কানও অতি উচ্চে। সর্বপ্রকার সাহিত্যের মধ্যে কাব্যই আমাদের স্থুপ্রবৃত্তির অনুশীলনে কুপ্রবৃত্তিদমনে

সাহিত্যে স্বাস্থ্যরক্ষা |

সাহাধ্য করিতে পারে আমরা কাব্যের সষ্ট নরনারীর সঙ্গলাভ করিয়া জীবনের নৃতনত্বের পিপাসা মিটাইতে পারি। সুতরাং আমাদের মানসিক স্বাস্থাবিধানে কাবোর মূলা অত্যন্ত অধিক।

কাবা কাহাকে বলে? কাবোর *একটা সংজ্ঞা নির্দেশ করা কঠিন। আমাদের সংস্কত আলঙ্কারিকগণ রসাত্বক বাকাকে কাবা নাম দিয়াছেম্ব। কাবা » আমাদের মনে হর্যবিষাদাদি রস (৭111৫) এর উদ্দেক করে কবি তাহার ইন্দ্রজালপ্রভাবে কতকগুলি কল্পিত নরনারীবু সৃষ্টি করিয়া তাহাদের সাহাযো আমাদের মনে রসোৎপাদন করেন। কৰি তাহাদের জীবনের সাহাযো স্বামাদের নিজের জীবনের বাযাখা। করেন। এইজন্য একজন বিখাত ইংরেজ সমালোচক কাবোর সংজ্ঞা দিয়াছেন “[1116111618007) 01 11ভিত অর্থাৎ মানবজীবনের ব্যাখা] কবি ঘে কৌশলে সেই ইন্দ্রজাল রচনা করেন, মিথ্যাকে সতোর আকারে পরিণত করিয়া আমাদের মোহ উৎপাদন করেন তাভাকে আট (8৮) বলে। এই আট হইতেছে কাব্যের প্রাণ, তাহার মুন্রবন্ত। কিন্ত আর্ট কাহাকে বলে, দে সম্বন্ধে নান! মুনির নানা মত। কথিত আছে একজন বিখাতি চিত্রকর বৃক্ষতলে দীড়াইয়া একটি সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্তের চিত্র আঁকিতেছিলেন। একজন চাষা তাহা দেখিয়া বলিল “আপনি এই জন্য এত কষ্ট স্বীকার করিতেছেন কেন? ফটোগ্রাফের দ্বার!

সাভিতোর স্বাযরক্ষ |

এক মুহুর্তেই এই জায়গার ছবি তুলিতে পারেন।” বল বাহুলা সেই চাষা আট কি তাহা বুঝিতে পারে নাই। কোন রস্ত বা ব্যক্তির ফটোগ্রাফ তোলাই আট নহে, সেই বস্তু বা ব্যক্তির ছবির সঙ্গে আরিষ্টের নিজের জয়ের ছাপও উঠা চাই যিনি তাহা পারেন, তিনিই প্ররুত আটিষ্ট, প্ররুত কবি, কারণ তাহার চিত্রে 10760751560) 01116 দেখিতে পাওয়া বায়। [॥6িএর 101010)16080107 দিতে হইলে হব স্বভাবের নকল করিলে চলে না, তাতার মধো, ফেক সুন্দর, যেটুকু সহজে ধরা পড়ে তাহা বাছিয়া বাহির করিতে হয়। আবার বে ভাব কবি অন্তের মনে প্রতিফলিত করিতে ইচ্ছ। করেন, তাহা তাহাবু নিজের মনে বথার্থরূপে অনুভব করা চাই। বন্তমান যুগের স্ুপ্রসিদ্ধ ননীবী কাউণ্ট টলই্র। (0০01) [0150৮ ) তাহার «৬৬174 15 ৪10?৮ নামক গ্রন্থে আট সন্ধে অনেক প্রকার গবেষণা করিয়া তাহার নিয়লাখিত সঙ্ঞ। নির্দেশ করিয়াছেন 2

5£81015 &10901008)5005105 10)15 0050 0176 10817 ০0103019051 01 7010009150101151 0 17767150101 6911) 630061781 51805, 18705 010 (9 901০1৯ 45০11025 0৩ 1045 11550 01)10051) 9170 0096 90061 10901)16 ৪1০ 1716060 0) (1)0955 156111)65 ৪100 21509 631)61151)00 01)6100,

অর্থাৎ একজনের মনে থে অনুভূতির উদ্রেক হয়, তাহা যদি তিনি কোন বাহ্িক উপায়ে অন্তের মনে সংক্রামিত করিতে

সাহিতে স্বাস্থা রক্ষা

পারেন তবে তাহাই আট। আনটির এই লক্ষণ হইতে আমরা পাইতেছি--

(১) আটের মুলবস্ক অন্ৃভূভির বিষয়, 115 61115

(১) তাহা কবি নিজে প্রথমে অন্তভব করিবেন, তাভার মধো ১7)0611 চাই-কেবল শোনা কথা ব। পড়া কথা লিখিলে আট হর না।

(৩) কবি তাঁভা কোন বাহিক উপায়ে প্রকাশ করির। অপরের মনে আক্রামিত করিয়া দিবেন।

(8) গাহা কবির দেখাদেখি অন্তেও অন্গভব করিতে পারিবে।

বে শিল্পবস্তর মধ্যে এই কয়টি লক্ষণ বিদ্যমান ভাত। কাব্য হউক, চিন্ন হউক বা প্রতিমুত্ত ভি হউক তাহাই 097. 01 লা,

ইহার সঙ্গে আটের আরও লক্ষণ পাইতেছি-ঞাট 98 [0671)501 010101) 21001001510) 101101170 076107 (026101)61 1)] 1176 58179 050111--অর্থাৎ আটের দ্বার৷ মানবজদযের একত। সম্পাদিত হয়_-মর্থাৎ কবির হৃদয়ের সভিত তাহার পাঠক- বগের এবং পাঠকবগের মধ্যে পরম্পরের মনে একই প্রকার ভাবের উদ্রেক হয়। “৯. 91]. ০91 ৪16 0156 স1)1590 ০৮19 0176 ১11) 01062 20000172107 10) 0109 81)001)61 %/0014 106 1১610650621. কিন্তু সেই আটের বস্তু কিরূপ হওয়া উচিত? 10 আ1055 10610, 91519 1015 065172915 0050 076

[5111)95 11) 71010) 10 00105500600 9100010 1) 0106

সাহিত্োর স্বাস্থারক্ষা

0651 2100 10151)650 10 ৮1710110761) 17861015002, 01 158১5100010 1001 101) 00001711001 [১5106111017 2 ১/1786 008155 001 006 61196116০07 081561565 ৪1)0 ০1 011)15. 4100 ০001 06106190101) 01 11711728163 10. 009 ৮/০11-0611)2 0 001561555 81700111615 15 17115 081160 0007 71011510985 [06£051)0101),

অর্থাৎ বে সকল অন্ুভূতি দ্বারা মানবহদয়ে সববাপেক্ষা। শ্রেক্ উচ্চতম ভাবের বিকাশ হইয়া আমাদিগকে উন্নতির,পথে পরিচালিত করে তাহাই আটের বিষয় হওয়া উচিত + 101519৮এব মনে 80615 21001021)200510) 8.0,001055010৩1101), 0০65 901 63515100115 0৮/1) 58106, 10000 15 ৮৪107101601 01016001011- 8016 25 1615 9০151068016 ০01. 10211700100 17021013170. অথাৎ আট কেবল আটের জন্য নহে-যে পরিমাণে ইহা দ্বার। মানবসমাজের উপকার বা অপকার সাধিত হয় সেই পরিমাণে ইহ; ভাল অথবা মন্দ

ধাহাদের মতে আট কেবল আটের জন্যই মুলাবান, সমাজের উপকারিতার বা অপকারিতার সহিত ইহার কোন সম্বন্ধ নাই_- কবির উদ্দেশ্য কেবল সৌন্দর্যাস্ষ্টি 'ও আনন্দদান, স্কুলমাষ্টাৰি করা কবির কার্য্য নহে-_তীহারা 1০0150০/এর এই মত অবশ্য স্বীকার করিবেন নাঁ। কিন্তু আমাদের হিন্দুর দেশে, বসিষ্ঠ

* আমাদের দেশের আলঙ্কারিকগণ “ব্রক্গান্সাদ-নহে দর” বলিয়া কাব্যরসের একট! লক্ষণ নির্দেশ করিয়াছেন

সাহিত্যের স্বাস্থারক্ষা |

বিশ্বামিত্র, ব্যাস-বাল্মীকি প্রভৃতি সিদ্ধমহধিশাসিত সমাজে, চির- দিনই শিল্পকল| অন্ান্ট মানবপ্রচেষ্টার (1)00181) 20051 ) ন্যায় সমাজপেবার নিযুক্ত থাকিবে 0০০91) 10159) যে €01181005 [)৩7০০])01017৮এর উল্লেখ করিয়াছেন তাহার অর্থও সমাজসেবা 41106 161101905 061090)1107 ০07 001 1106) 110 115 ১10০9 7100 10056 [)18001071 7001510801910) 15 006 00105- 019011576২5 01710 001 ৮০11-9611)5 1090] 109661017] 2100 50১11110081) 10705510071 200 ০09115011৮6, 16111)0181 2100 61611171) 1165 11) [176 31011) 0 01011011109 900105 11৩1) 11) 11011 10৮11 10811000709 100) 0102 810001001 অথাত বর্তমান যুগের ধন্মভাব কি? না মান্ুষেমানুষে প্রীতি- স্কাপন ভ্রাতভাবের প্রতিষ্ঠা তাহার দ্বারাই মানবসমাজের কলাণ সাধিত হয়। | বাহা হউক লোকশিক্ষা সমাজের উন্নতিসাঁধনই বদি আটের প্রধান উদ্দেন্ত হয়, তবে আমাদের বর্তমান যুগের বাঙ্গলা কাব্য দ্বারা সে উদ্দেগ্ত কি পরিমাণে সাপ্লিত হইতেছে, এখন তাহার বিচার করিব। সকলেই জানেন কাব্য সাধারণতঃ তিন শ্রেণীতে বিভক্ত-__ৃগ্তকাবা অর্থাৎ নাটক, পদ্যকাঁবা এবং গগ্ঠকাবা ৬ঘেমন উপন্যাস গল্প। ইহার মধ উপন্টাস গন্প এই ঘুগে প্রাধান্য লাভ করিয়াছে উপন্তাস গল্পই এখন সর্বধজনপ্রিয় কাব্য। তাহার প্রধান কারণ এই যে, এই শ্রেণীর কাবো আমরা নব নব নরনারীর সঙ্গলাভ করিতে পারি এবং তাহাদের আচরণ

১০ সাহিতোর স্্াস্থারক্ষা |

দেখিয়া সহজেই আমোদ পাই আর উপন্তাসে জীবনের ব্যাখা অতি সুস্পষ্ট

ডি

বসন্তের মলয়হিল্লোল বহিলে যেমন বনস্থলী পর্যাপ্ত পুষ্প পল্লাবে শোভিত হইঘ্বা উঠে, বঙই স্তথের বিষয় বিগত অদ্ধ শতাব্দীর মধ্যে অর্থাৎ মাইকেলের মেঘনাদবধ কাবা বস্কিমচন্দ্রের ঢুরৌশ- নন্দিনী প্রকাশিত হওরার পর হইতে, আমাদের ঝ্দসাহিত্যে অসংথা কাবা নাটক নবেলের উৎপত্তি হইয়াছে বসন্তকালে বনস্কলীতে যতগুলি পত্রপুষ্প গজাইঝ| উঠে শাহুর সবগুলি যেমন স্থারী হয় না, অথব। স্থায়ী ফল প্রসব করে না, সেইরূপ এই সব কাবা নাটক নবেলের সবগুলিই যে স্থারী হইয়াছে বা হইবে এরূপ * আশা করা বায় না। বরং দেখিতে পাওয়া বার, ইহাদের অনেকগুলিই অকালে ঝরিয়। পড়িয়া বিস্থৃতিসাগরে ডুবিয়া গিয়াছে তাহার প্রধান কারণ সেগুলিতে প্রকৃত আটের অভাব আমাদের বঙ্গসাহিত্যে কবি হইয়াছেন হইতেছেনু অনেক, কিন্ত তাহাদের মধ্যে প্রকৃত আর্টের অধিকারী কজন? প্রকৃত আট থাকুক বা৷ না থাকুক, আজকাল দেখিতে পাই অনেক বাঙ্গালী লেখন্তরকরই নবেল রচনার দিকে একটা মন্ত ঝোঁক পড়িয়াছে। কবিতার ম্যায় চৌদ্দ অক্গর* মিলাইতে হয় না বলিরা অনেকে মনে করেন নবেল লেখা! খুব সহজ আবার পাঠকপাঠিকাগণও অতি সহজে, এমন কি ঘুমাইতে ঘুমাইতে নবেল পড়িতে পারেন তাহার ফলে আজকাল প্রতি মাসে বিস্তর

সাহিতোন্ স্বাস্থারক্ষা | টি

নবেল গন্সের বই প্রকাশিত হইয়া মাসিকপত্রিকাসকলের বিজ্ঞাপন-্তন্ত গুলিকে ভারাক্রান্ত করিরা তুলিতেছে বদি কেবল মাসিক পত্রিকার বিজ্ঞাপনস্তস্থে সেগুলি নিবদ্ধ থাকিত, তবে ক্ষতি ছিল না। কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ নবেল গল্পের বই আমাদের অন্তঃপুরে প্রবেশ করিয়া সেখানে যে একটা অস্বাস্থাকর আবৃ হাওয়ার (01017681017 801১9১001০1৬এর ) স্ষ্টি করিতেছে আমাদের সমাজের বারু দধিত করিতেছে, ইভাই আমাদের গ্রধান আপত্তির কারথ। বে সকল লেখকের আট নাই, তাহাদের গ্রন্ধ তত অনিষ্টকর নহে, কারণ ভাহা কেবল একটা ক্ষণস্থারী উত্তেজনার স্ষ্টি করিয়াই লুখ্ু,হইর। বার | কিন্ত বিষরে বাহারা গ্রকৃত কৰি আটিষ্ট তাহািগের গ্রন্থই বেশ অনিষ্টকর-_কারণ তাহার) প্রঠকপাঠিকার মনে একটা অস্বাস্থ্যকর ভাব চিরস্থাঘি- ভাবে মুদ্রিত করিয়া দিতে পারেন।, বড়ই ছুঃখের বিষর, যে সকল মহাত্বা প্রকৃত ঈশ্বরদন্ত ক্ষমতার অধিকারী তাহারা ৭11 (97 ৪105 585 এই ধুয়া ধরিয়া সমাজের বিশে অনিষ্টসাধন করিতেছেন

এস্থলে কেহ হয় বলিবেন, ধাহার। নাটক নবেল পড়েন, তাহারা সেগুলিকেশান্ন বলিয়া মনে করেন, তাহার ছার সামঘ্রিক আমোদ উপভোগ করেন মাত্র। তাহা তাহাদের জীবনে কাধ্যে পরিণত করিবেন এরূপ পাগল সংসারে কয়জন আছেন ?

এরূপ পাগল থে একেবারেই নাই একথা বলা যায় না। সম্বন্ধে কবিবর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার প্রমাণ। তীহার “চোখের

১২ সাহিত্যের ্স্থারক্ষা

বালি”্র নায়িকা বিনোদিনীর সহিত বেহারীর এইরূপ কথোপকথন হইতেছে 2

বিহারী কহিল-_“তুমি অনেক স্পষ্ট কথা বলিবার চেষ্টা করিয়াছ, এবার আমিও একটা স্পষ্ট কথা বলি। তুমি আজবে কাগুটা করিলে এবং কথাগুলি বলিতেছ ইহার অধিকাংশই তুমি বে সাহিতা পড়িরাছ, তাহা হইতে টুরি।" ইভার বারো আনাই নাটক নবেল।”

বিনোপিনী--“নাটক নবেল।”

বিহারী_হা, নাটক, নবেল! সেও খুব 'উচ্চদরের নয়। তুমি মনে করিতেছ সদস্ত তোমার নিজের, তাহা নহে সবই ছাপাখানার প্রতিধ্বনি যদি তুমি নিতান্ত নির্বোধ মূর্খ সরলা বালিকা। হইতে, তাহা হইলেও তুমি সংসারের ভালবাসা হইতে বঞ্চিত হইতে না_কিন্ত নাটকের নায়িকা ষ্রেলের উপরেই শোভ। পায়, ঘরে তাহাকে লইয়া চলে নাঁ।”

নাটক নবেল পড়ি কোন কোন গৃতস্থের কুলবধূ যে গ্রেজের নায়িকা হইতে পারেন ইহ! কেবল রবীন্দনাথের কল্পনা নহে। কবিবর স্বগীয় নবীনচন্দ্র সেনও “আমার জীবন” গ্রন্থে তাহার ঢুই একটি দৃষ্টান্ত দেখাইয়াছেন। তিনি রাণাঘাট থাকিবার সময়ে একজন স্ীলোক “কুন্দনন্দিনী” নাম স্বাক্ষর করিয়া বিষ খাইয়া মরিবেন এরূপ ভর় দেখাইয়া তাহাকে প্রেমপুর্ণ পত্র লিখিয়াছিলেন। তাহার, “জ্যোৎন্না” ন্বেলের নায়িকা ভিন্ন আর কি হইতে পারেন ? “কুন্দননিনীর” স্থষ্টিকর্তী স্বয়ং বঙ্কিমচন্ত্রও ঘরে ঘরে অনেক কন্দনন্দিনী শৈবলিনীর স্থ্টি করির| গিয়াছেন-__তীহাদের কেহ কেহ

সাহিত্যে স্বাস্থারক্ষা ১৩

হৃদরোগে উদ্ন্ধনে বিষপানে আকালে জীবন বিসর্জন করিয়াছেন__ একথা পুজনীয় শ্রীঘুক্ত তারাকুমার কবিরত্র মহাশয় আমাকে বলিয়াছেন, এবং সম্বন্ধে বঙ্কিমচন্ত্রও নাকি শেষ বয়সে অনুতাপ করিয়াছিলেন ।*

নাটক নবেলে বণিত প্রেমের চিত্র অপব্রিণত-বয়স্ক অগঠিত- চরিত্র বালকবালিকাদিগের মধ্যে থে কতটা হলাহল ছড়াইতে পারে, ইহা দ্বারা তাহা সহজেই বুঝা যাইতেছে আমার বোধ হয় কলেরা প্লেগ বসন্তের বাজ অপেক্ষা এই প্রেমের বীজ সমাজ- শরীরে অধিকতর মারাত্বক

“প্রেমের বীজ” বলিলাম, শুনিয। কেহ হাসিবেন না পাশ্চাতা দেশের কোন বিজ্ঞানবি পণ্ডিত কলেরা বসন্ত প্রস্ততি রোগের বাজের (০11) ) গায় প্রেমেরও (19৮৩) একটা 56110 আবিষ্কার করিয়াছেন। প্রেমিক প্রেমিকার শরীরে নাঁকি সেই 2৪1) কোন সুত্রে প্রবেশ করিলে, তাহাদিগকে পাগল করিয়া তোলে। তবে প্লেগ বসন্ত কলেরার £০%) অতি শীঘ্রই কার্য্যকরী হইয়া অতি অল্প সময়ের মধ্যে শরীর ধ্বংদ করে, আর এই 1০৬০ এর 2০11 অলঙক্ষিতভাবে শরীরে অথবা মনে প্রবেশ লাভ করিয়। অনি ধীরে মানুষকে নিস্তেজ করিয়া ফেলে। এই কারণে আমার মতে 10009০01011) এর সহিত এই তারা এর অধিকতর সাদৃশ্য আছে। আজকাল 1)০9০1%010) সম্বন্ধে গবেষণা!

লিট উর: তাত টিন রর

খাওয়াটা ষে নীতি বরুদ্ধ তা | আমি ্বাকার করি। 2 ৭৯ পৃষ্ঠা

১৪ সাহিত্যের স্াস্থরক্ষা |

চলিতেছে, সেই সঙ্গে সঙ্গে প্রেমের ৪11) এর গবেষণা! করিলে মন্দ হয় না। তবে আমাদের খধিগণ বসন্তের টীকার স্তায় এই প্রেমরোগের প্রতিষেধক একটা টাকার আবিষ্কার করিয়াছিলেন। তাহার নাম বালাবিবাহ। কিন্তু তাহাতে উপন্লাসলেখকের বড়ই মুস্কিল

বোধ হয় সকলেই জানেন, বেমন কানু ছাড়া কীর্তন হয় না, সেইরূপ প্রেম না হইলে উপন্যাস হয় না। বন্ধুবর শ্রীযুক্ত ললিতকুমার বন্দোপাধায় সংপ্রতি “প্রেমের কথা” নামক যে পুস্তক গকাশ করিয়াছেন, তাহাতে সন্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা আছে। প্রেম না হইলে উপন্যাস হয় না বলিয়া! উপন্তাস- লেখকের পক্ষে ইহা নিতান্ত সাংঘাতিক কথা। যে ইঘুরোপীয় সমাজে উপন্াপ এত প্রসার লাভ করিয়াছে, সেখানে ওপন্তাসিক প্রেমের কিছুমাত্র অভাব নাই, কারণ সে সমাজে বালাবিবাহ . নাই, পুর্ববরাগের পরে বিবাহ হয়, আবার স্ত্রীস্বা ধীনতা থাকাতে বিবাহের পুর্ধে এবং পরে স্ত্রীপুরুষের অবাধে মেলামেশার নিয়ম প্রচলিত আছে। কিন্ত বাঙ্গালী সমাজে ইহার একান্ত অভাব। এই কারণে বাঙ্গালী উপন্তাসলেখককে প্রেমের প্লট. গঠন করিবার জন্ত অনেক মাথা ঘামাইতে হয়। বর্তমান সময়ে দেশে ঘুদ্ধবিগ্রহও নাই, যে কারণে সমাজে একটা উলট-পালট হইতে পারে, এবং রাজপুত্র যুবক জগৎসিংহ মুসলমান নবাবের . অন্তঃপুরে বন্দী, হইলে সেখানে নবাবপুত্রী আয়েষ! তাহাকে “বন্দী আমার প্রাণেশ্বর” বলিয়া সন্বোধন করিতে পারে। আবার বঙ্গদেশের ব্রাহ্মসমাজের কিয়দংশ বদিও ইংরাজ সমাজের অনুকরণে গঠিত

সাহিতোর স্বাস্থ্যরক্ষ | ১৫

হইয়াছে, তাঁহার মধো ইচ্ছা করিলে নায়ক নায়িকা খুঁজিয়া বাহির করিতে পার। যার, কিন্তু ঝাঁধা হইয়া! গ্রটের খাতিরে মন্দ কিছু লিখিলে চোখ-ব্াঙানির ভয় আছে,-এই দীন লেখক “ঞ্বতারা” পিখিয়। সেইরূপ চোখ-রাঙানি যে. না পাইয়াছেন এরূপ নহে। এমন কি কবিবর রবীন্দ্রনাথ “গোরা” লিখিয়। তাহা হইতে নিষ্কৃতি লাভ করেন নাই। সুতরাং বাধ্য ভইয়া ব্রাঙ্গালী উপন্যাস-লেখককে তিন্দমাজের মধ্য হইতে অন্য প্রকার প্রেমের কল্পনা করিতে হয়। সেই প্রেম সাধারণতঃ তিন মৃদ্তি ধারণ করে বথা(১) বিধবার প্রেম, (২) সধবার প্রেম এবং (৩) বারবনিতার প্রেম

(৯৯)

বিধবার প্রেম

আমাদের প্রাচীন সাহিতো বিধবার প্রেমে পড়ার চিত্র কোথা দেখিয়াছি বলিয়া মনে ভয় নাঁ। প্রাচীন কবিগণ ত্রহ্গচারিণা বিধবাকে চিরদিন সন্মানের চর্গে দেখিরা আসিয়াছেন। রামারণে বালির স্ত্রী তারা বা রাবণ-বনিতা। মন্দোদরীর তৎকালে প্রচলিত দেই সেই সমাজের প্রথা অনুসারেই পুনব্দার দেবরের সহিত বিবাহ হইয়াছিল, কিন্ত তাহারা কাহারও প্রেমে পড়েন নাই আমাদের আধুনিক বাঙ্গলা লাহিতো, স্বয়ং বঙ্িমচনই কুন্দনন্দিনীর টি করিয়া ইহার পথ দেখাইয়াছেন। কুন্দনন্দিনীর পরে রোহিণীও তাহার স্থষ্টি। কিন্ত কুন্দফুল কৃর্যামুখীর পাশে অতি নিভৃতে, নিতান্ত জড়দড় হইয়া ফুটিরাছিল, ফুটিতে ফুটিতে অকালে শুকাইয়া

১৬ সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা |

গেল। কবি তাহাঁকে নারিকার পদ্দে অভিষিক্ত করিয়া তাহাকে লোকচক্ষুর সন্থুখে খুব বড় করিয়া ধরেন নাই রোহিণী বিধবা হইলেও কোকিলের কুহুরবে মাতোয়ারা হইবার বীজ তাহার রৃক্তের মধ্যে ছিল। সে যখন গুহে ছিল, তখন তাহাকে বিধবা বলিয়া চেনা কঠিন হইত। সে গৃহত্যাগ করিয়া বারবিলাসিনীর গ্রেডে প্রমোশন পাইল।: আর সে সধবা থাকিলেও বে গুহত্যাগ করিত না, কথা হলপ করিয়া বল! বায় না কবির মানসৌ- দ্ঠানের নীলোত্পল ভ্রমরের পার্খে রোহিণী যেন উজ্জলবর্ণ, গন্ধহীন বিলাতী ফুল--তাহার দ্বারা টেবল সাজানো চলে, কিন্তু তাহা দেবপুজায় লাগে না। ফল কথা, কুন্দনন্দিনী বা রোহিণীকে কৰি নারিকার আসন দেন নাই, বরং তাহাদের শোচনীর পরিণাম দেখাইয়া তিনি সমাজের উপকারসাধন করিবার ইচ্ছা করিয়াছিলেন

বঙ্কিমচন্দ্রের পরে আমরা পাইয়াছি কবিবর রবীন্রনাথ-স্থ্ট বিধবা চরিত্র_চোখের বালির বিনোদিনী বিনোদিনী মুদুগন্ধ, কষুদ্রাবয়ব কুন্দফুল নহে, আবার বিলাতী মরস্মী ফুলও নহে একেবারে সগ্ভঃপ্রস্কুটিত গোলাপ কবিবর বিনোদিনী-চরিত্রে তাহার আর্টের চরুমোতকর্ষ দেখাইয়াছেন। তবে গোলাপও বিদ্েণী ফুল,_-এই গোলাপও শিবপুজায় লাগে না। কবি প্রথমেই বিনোদিনীর পরিচয় দিতে বসিয়া বলিয়াছেন

“বিনোদিনীর বাপ বিশেষ ধনী ছিল না, কিন্ত তাহার একমাত্র কন্তাকে সে মিসনারী মেম রাখিয়া বহু যত্বে পড়াশুনা কারুকার্য শিথাইয়াছিল ।,

সাহিত্যের াস্থযরক্ষা | ১৭

হিন্দুর ঘরের মেয়ে মিশনরি মেমের শিক্ষায় কিরূপ জীবে পরিণত হইতে পারে, আমর! বিনোদিনী-চরিত্রে তাহ! পাইতেছি। বিনোদিনীর সহিত প্রথমে মহেন্দ্র নামক এক ধনী যুবকের বিবাহের সম্বন্ধ হইয়া সে সম্বন্ধ ভাঙ্গিয়া গেল। পরে মহেন্রের মাতা তাহার এক গ্রামসম্পকীয় ভ্রাতুদ্পুত্রের সহিত এই গরিবের মেয়েটির বিবাহ দেওয়াইলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বিল্লোদিনী তাহার অল্প কাল পরেই বিধবা হইল। এদিকে মাতার নির্বন্ধাতিশধো মহেন্দ্র আশা নামী একটী ক-অক্ষর-জ্ঞানহীনা, সম্পূর্ণ সংসারানভিজ্ঞা বালিকাকে বিবাহ করিল। মহেন্দ্রের অনুরোধে প্রথমে তাহার অন্তরঙ্গ বন্ধু বিহারীও সেই বালিকাকে বিবাহ করিতে রাঁজি হইয়াছিল, কিন্তু মেয়ে দেখার পরে মহেন্দ্রই তাহাকে বিবাহ করিতে চাহিল, বিহারী নিতান্ত ভালমান্ুষের মত সরিয়। দাড়াইল। ইহার পরে ঘটনাস্ুত্রে বিনোদিনীও আসিয়। মহেন্জের বাড়ীতে আশালতার পার্খে স্থান পাইল, এবং তাহার পর হইতেই বিনোদিনীর প্রেমের লীলাখেলা আরম্ত হইল। প্রেমের খেলা জিনিসট! কখনও হিন্দুর গুছে প্রচলিত ছিল না, ঘরের বাহিরে অবগ্ত ছিল। রবীন্ত্রনাথই প্রথমে হিন্দুগৃহে তাহা প্রবেশ করাইয়াছেন। বিনোদিনী মিশনরি মেমের দ্বার শিক্ষিত হয় ইংরেজী নবেলও দুই চারিথানা পড়িয়৷ থাকিবে, তাই 917056101, ০০০0511% প্রভৃতি ইংরেজী ধরণের প্রেমের খেলার মন্দ বুঝিয়াছিল। তাই সে মহেন্দ্র বিহারীকে অবলম্বন করিয়া! অনেক খেলাই খেলিয়াছে। অথবা বলিতে গেলে গ্রন্থকার স্বয়ং মহেন্দ্র, বেহারী, বিনোদিনী আশাকে লইয়া অনেক

মধ

১৮ সাহিত্যের নাস্থ্যরক্ষ

খেলা দেখাইয়াছেন__ইহারা! যেন তাহার হাতের দাবার ঘু'টা-_“চোখের বালি, উপন্তাসথানি একটা শতরঞ্চ খেলার ছক- গ্রন্থকার এই ছকের উপর তাহার ইচ্ছামত এই সকল ঘু'টা চালাইয়া কিস্তি মা করিয়াছেন। উপন্তাসের মধ্যে শতরধ্চ। খেলারই অপর নাম উপন্যাসে মনোবিজ্ঞান-চর্চ।। ইহাই না কি এখন খুব উচ্চ দরের আর্ট যাহ! হউক বিনেদিনী, মহেন্্র বিহারীকে লইয়া কিরূপ খেল! খেলিয়াছিল, তাহার সংক্ষি ইতিহাস দিতেছি। বিনোদিনী মহেন্্রের গৃহে স্থান পাইয়া, আশার স্বামি-সৌভাগ্য দেখিয়া ঈর্ষানলে জর্জরিত হইল।

“আশার প্রতি মহেন্রের সোহাগ যত্র বিনোদিনীর প্রণর্ববঞ্চিত চিত্তকে সর্ধদদাই আলোড়িত করিয়া তুলিত, তাহাতে বিনোদিনীর বিরহিনী কল্পনাকে বে বেদনায় জাগরূক করিয়া রাখিত তাহার মধ্যে উগ্র উত্তেজনা ছিল। যে মহেন্দ্র তাহাকে তাহার সমস্ত জীবনের সার্থকতা হইতে ভরষ্ট করিয়াছে, থে মহেন্দ্র তাহার মত স্ত্রী ডুকে উপেক্ষা করির! আশার মত ক্ষীণবুদ্ধি দীনপ্রক্কৃতি বালিকাকে বরণ করিয়াছে, তাহাকে বিনোদিনী ভালবাসে কি বিদ্বে করে, তাহাকে কঠিন শাস্তি দিবে, না, তাহাকে হৃদয় সমর্পণ করিবে, তাহা বিনোদিনী ঠিক করিয়া বুঝিয়া উঠিতে পারে নাই”

তাহা ঠিক বুঝিতে না পারুক, বিনোদিনী মহেন্ত্রকে ধরিবার জন্য নান। ফাঁদ পাতিতে লাগিল। অবশেষে যখন মহেন্দ্র তাহার ফাঁদে পড়িল, তখন তাহাকে প্রত্যাধ্যান করিয়া এই চিঠি লিখিল__

“আমার কাছে কি চাও তুমি? ভালবাসা? তোমার ভিক্ষী-

সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা | ১৯

বৃত্তি কেন? জন্মকাল হইতে তুমি কেবল ভালবাসাই পাইয়া আসিতেছ, তবু তোমার লোভের অন্ত নাই!

“জগতে আমার ভালবাসিবাঁর ভালবাসা পাইবার কোন স্থান নাই। তাই আমি খেলা করিয়া ভালবাসার খেদ মিটাইয়া থাকি যখন তোমার অবসর ছিল, তখন সেই মিথ্যা খেলাম তুমিও যোগ দিয়াছিলে। কিন্ত খেলার ছুটী কি কুরাগী না? ঘরের মধ্যে তোমার ডাক পড়িয়াছে, এখন আবার খেলার ঘরে উকি ঝুঁকি কেন? এখন ধূল ঝাড়িয়া ঘরে যাও। আমার ঘর নাই, আমি মনে মনে একল। বসিয়া খেল করিব, তোমাকে ডাকিব না»

আমি মনে মনে একলা বসিয়া খেলিব--এটা বিনোদিনীর মিথ্যা কথা কারণ, ইহার পুর্ব হইতেই বিনোদিনী 'বেহারী ঠাকুপো”র দ্রিকে আকুষ্ট হইয়াছিল, এবং তাহাকে অন্নে অল্পে নিজের দিকে আকর্ষণ করিতেছিল।

বাঘিনী যেমন একটা শীকার ধরিয়া তাহার সঙ্গে খেল! করে, এবং তাহার ঘাড় ভাঙ্গিয়া রক্ত খাইয়! * অন্ত শীকারের জন্য ধাবিত হয়, বিনোদিনীও সেইরূপ মহেক্রের ঘাড় ভাঙ্গিয়! এখন বিহারীর প্রতি ধাবিত হইল। পূর্ব হইতেই সে বিহারীর মনে একটা মোহের সঞ্চার করিয়াছিল, তাই বিহারী এমন বাঁধিনীর মধ্যেও «দেবী-হদয়ের পরিচয় পাইয়াছিল। বিনোদিনী রাত্রে বিহারীর বাড়ীতে উপস্থিত হইয়া তাহার নিট প্রেম ভিক্ষা চাহিল। বিনোদিনী বলিল-_

“শুন ঠাকুরপো, আমি নির্লজ্জ হইয়া বলিতেছি, তুমি আমাকে

২০ সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা

ফিরাইতে পাঁরিতে, মহেন্র আমাঁকে ভালবাসে বটে, কিন্ত সে নিরেট অন্ধ, আমাকে কিছুই বোঝে না। একবার মনে হইয়াছিল তুমি যেন আমাকে বুবিয়াছ, একবার তুমি আমাকে শ্রদ্ধা করিয়া ছিলে_-সত্য করিয়া বল--সে কথ আজ চাপা দিতে চেষ্টা করিও না। “বিহারী সত্যই 'বলিতেছি, আমি তোমাকে শ্রদ্ধা করিয়াছিলাম। | “বিনোদিনী ভূল কর নাই ঠাকুরপো, কিন্তু বুঝিলেই ঘি, শ্রদ্ধা করিলেই যদি, তবে সেইখানেই থামিলে কেন? আগাকে ভালবাসিতে তোমার বাধ! কি ছিল? আমি আজ নির্লজ্জ হইয়া তোমার কাছে আসিরাছি, এবং আমি নির্লজ্জ হইয়া তোমাকে বলিতেছি_তুমিও আমাকে ভালবাসিলে না কেন? আমার পোঁড়। কপাল ! তুমিও কি না আশার ভালবাসায়, মজিলে? না, তুমি রাগ করিতে পাইবে না। বোস ঠাকুরপো, আমি কোন কথ৷ টাকিয়া বলিব না। তুমি যে আশাকে ভালবাস, সে কথা তুমি বথন নিজে জানিতে না, তখনও আমি জানিতাম। কিন্তু আশার মধ্যে তোমরা কি দেখিতে পাইয়াছ, আমি কিছুই বুঝিতে পারি ন1। ভালই বল, আর মন্দই বল, তাহার আছে কি? বিধাতা কি পুরুষের দৃষ্টির সঙ্গে অন্তরূ্টি কিছুই দেন নাই? তোমরা কি দেখিয়া-- কতটুকু দেখিয়! ভোলে ! নির্বোধ! অন্ধ!” _ এই হিংস্র জন্তর সঙ্গে বিহারীর অনেক কথা হইল, এবং বিহারী তাহাকে তাহার নবেলি প্রেমের জন্য টিটুকারী দিল, এবং অবশেষে

সাহিত্যে স্বাস্থ্যরক্ষা | ২১

তাহাকে দেশে চলিয়। যাইতে বলিল। বিনোদিনী সেই রাত্রে সেখানে থাকিতে চাহিল। বিহারী বলিল-_

“না, এত বিশ্বাস আমার নিজের "পরে নাই 1”

এই কথায় বিনোদিনী একটা 5০০০ করিয়া বসিল। সে. তৎক্ষণাৎ চৌকি হইতে ভূমিতে লুটাইয় পড়িয়া বিহারীর ছুই প| প্রাণপণ বলে বক্ষে চাঁপিয়া ধরিয়া কহিল*__

“এটুকু ছূব্বলতা। রাখ ঠাকুরপো। একেবারে পাথরের দেবতার নত পবিত্র হইয়ো না। মন্দকে ভালবাসিয়া একটু মন্দ হও ।”

বলিয়া বিনোদিনী বিহারীর পদযুগ বারংবার চুম্বন করিল। বিহারী বিনোদিনীর এই আকমুম্মক অভাবনীয় বাবহারে ক্ষণকালের জন্য যেন আত্মসংবরণ করিতে পারিল না। তাহার শরীর-মনের সমস্ত গ্রস্থিৎযেন শিথিল হইয়া আসিল। বিনোদিনী বিহারীর এই স্তব্ধবিহ্বল ভাব অনুভব করিয়া তাহার পা ছাড়িয়। দিয়া নিজের দুই হাঁটুর উপর উন্নত হইয়া! উঠিল, এবং চৌকিতে আসীন বিহারীর গলদেশ বাহুতে বেষ্টন করিয়৷ বলিল-_-

“জীবনসর্ধস্ব, জানি, তুমি আমার, চিরকালের নও,__কিন্তু আজ এক মুহূর্তের জন্য আমাকে ভালবাস! তারপরে আমি আমাদের সেই বনজঙ্গলে টলিয়া বাইব, কাহারও কাছে কিছু চাহিব না। মরণ পর্য্যন্ত রাখিবার মত আমাকে একট! কিছু দেও।'-_বলিয়া বিনোদিনী চোখ বুজিয়৷ তাহার ও্ঠাধর বিহারীর কাছে অগ্রসর করিয়া দিল» বাগকাকচার বাতি লাই

বলা বাহুল্য, রবীন্দ্রনাথের এহন মী দয়া নি

2৮০

২২ সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা।

(০1875) উঠিয়াছে। ইহার নিকট বঙ্কিমচন্ত্রের বর্ণিত আয়েষার এই বন্দী আমার প্রাণেশ্বর শিশুর আলিঙ্গন

বিনোদিনী যাহ! চাহিয়াছিল, তাহাই পাইল বিহারী বদিও প্রথমে বিনোদিনীকে বলিয়াছিল-তোমার এই প্রেমের আলাপ বারো আনা নাটক নবেল।” কিন্তু অবশেষে সে এই বাঘিনীর দ্বারা পরাভূত হইল। অই দেখিতে পাই যে, শনিগ্রহ” মহেন্দ্রের ভবনে উদিত হইয়া “বন্ধুর প্রণর, দম্পতির প্রেম, গৃহের শান্তি পবিত্রতা একেবারে ছারথার করিয়। দিল”, বিহারী প্রবল ঘ্বণায় সেই বিনোদিনীকে সমস্ত অস্তঃকরণের সহিত সুদুরে ঠেলিয়৷ ফেলিয়া দিতে চেষ্টা করিল, কিন্তু পারিল কৈ €ু বিহারী চক্ষু বুজিয়৷ সেই মুখকে স্বৃতিলোক হইতে নির্বাসিত করিয়৷ দিবার চেষ্টা করিতে লাগিল, কিন্ত কোনও মতেই তাহাকে আঘাত করিতে ত্রাহার হাত উঠিল না__একটি অসম্পূর্ণ ব্যাকুল চুম্বন তাহার মুখের কাছে আসন্্ হইয়। রহিল, পুলকে তাহাকে আবিষ্ট করিয়া তুলিল।

ইহার পর বিহারী অন্যমনস্ক হইবার জন্য নান! প্রকার সৎকার আরম্ত করিল পশ্চিমে বেড়াইতে গেল। বিনোদিনী অল্প কয়েক দিন তাহার দেশের বাড়ীর জঙ্গলের মধ্য থাঁকিয়া অবশেষে নিতান্ত নির্লজ্জভাবে মহেন্দ্রের সঙ্গে বাহির হইয়া আবার কলিকাতায় ফিরিয়া আদিল, এবং অধিকতর নির্লজ্জভাবে সেই প্রেমোন্মত্ত মহেন্দ্রের ' বন্ধে চড়িয্া বেহারীর , খোঁজ, করিতে লাগিল। পরে এক দিন আলাহাবাদে বেহারীর ঝাগানবাটাতে মহেন্দ্রের অসাক্ষাতে বিনো- দিনীর সঙ্গে বেহারীর দেখা হইল। তখন বেহারীর মনে প্রথমে

সাহিত্যের (স্বাস্থ্য রক্ষা ২৩

বিনোদিনীর প্রতি দ্বণার উদ্রেক হইল, সে কোনও কথা। না বলিয়া চলিয়৷ যাইতেছিল। বিনোদিনী বলিল-__

“আজ বদি ভুমি বিমুখ হইয়া 'এমন করিয়া চলিয়া বাও, তবে আমি তোমারি শপথ করিয়। বলিতেছি আমি মরিব 1”

বিহারী তখন ফিরিয়৷ দাড়ায়! কভিল-_

“বিনোদিনী, তোমার জীবনের সঙ্গে* আমাকে তুমি জড়াইবার চেষ্টা কর্িতেছ কেন? আমি তোমার কি করিরাছি? আমি কখনও তোমার পথে দাড়াই নাই--তোমার সুথদুঃখে হস্তক্ষেপ করি নাই? বিনোদিনী কহিল “তুমি আমার কতখানি অধিকার করিয়াছ, তাহা একবার তোমান্ুক জানাইয়াছি, ভুমি বিশ্বাস কর নাই। তবু আজ তোমাৰ বিরাগের মুখে সেই কথাই জানাইতেছি। ০০৮হ০০৭৭ ঠাকুরূপো যাহ! মনে করিতেছ, তাহা নহে। ঘরে কোন কলঙ্ক স্পশ করে নাই। তুমি এই ঘরে এক দিন শয়ন করিয়াছিলে__-এ ঘর তোমারই জন্ত উৎসর্গ করিয়া রাখিয়াছি__এঁ ফুলগুল1 তোমারি পুজা করিরা আজ শুকাইয়া আছে। এই ঘরেই তোমাকে বসিতে হইবে

৭শুনিয়। বিহারীর পুলক সঞ্চার হইল |”

বিহারী ঘরের "মধ্যে গ্রাবেশ করিরা খাটে বসিল। বিনোদিনী তাহার জন্ত পাগল হইয়া কত জায়গায় ঘুরিয়াছে, মহেন্্র তাহাকে কিরূপ প্রতারণা করিয়াছে, ইত্যাদি কথ! বলিল। বিহারীর হৃদয় আবাবু গলিয়া গেল। অবশেষে মহেন্র আদিয়া যখন উভয়কে একত্র দেখিয়৷ টিটুকারী দিল, তখন বিহারী বলিল-_-

২৪ « সাহিত্যের |বাস্থ্যরক্ষা

“মহেন্রু, বিনোদিনীকে আমি বিবাহ করিব, তোমাকে জানাইলাম, অতএব এখন হইতে তুমি সংযত হইয়া কথা কও।” বিনোদিনী তাহা শুনিয়া বলিল--ছি ছি, কথা মনে করিতে লজ্জা হয় আমি বিধবা, আমি নিন্দিতাঁ, সমস্ত সমাজের কাছে আমি তোমাকে লাঞ্চিত করিব কখন হইতেই পারে নী। ছি ছি, কথা তুমি মুখে আনিও না ।১-.-...**বিহারী বলিল “বিনোদিনী আমি তোমাকে ভালবাসি | “সেই ভালবাসার অধিকারে আমি আজ একটি মাত্র স্পর্ধা প্রকাশ করিব” বলিয়া বিনোদিনী ভূমিষ্ট হইয়া বিহারীর পদাঙ্ুলি চুম্বন করিল। পায়ের কাছে বসিয়া কহিল “পরজন্মে তোমাকে পাইবার জন্য আমি তপস্তঃ করিব-এ জন্মে আমার আর কিছু আশা! নাই, প্রাপা নাই। আমি অনেক ছুঃখ দিয়াছি, অনেক ছুঃখ পাইয়াছি, আমার অনেক শিক্ষা হইয়াছে। ষে শিক্ষা যদি ভুলিতাম তবে আমি তোমাকে হীন করিয়া আরো হীন হইতাম কিন্তু তুমি উচ্চ আছ বলিয়াই আজ আমি আবার মাথ। তুলিতে পারিয়াছি-_এ ইচ্ছা! আমি ভূমিসাৎ করিব ন11”

আমি অনেক দুঃখ দিয়াছি, অনেক দুঃখ পাইয়াছি, আমার অনেক শিক্ষা হইয়াছে” বিনোদিনীর এই শেষ কালের অনুতাপ আমাদিগের হৃদয় স্পর্শ করে, সন্দেহ নাইণ এখানেই কবির আর্টের সার্থকতা কারণ, পাপের প্রতি দ্বণা যেমন আমাদের" স্বাভাবিক, পাপীর প্রতি করুণাও সেইরূপ আমাদের মনের স্বাভাবিক ধর্ম। বিনোদিনীর প্রতি আমাদের যতই দ্বণা থাকুক, তাহাকে শেষ জীবনে পাপের জন্য অনুতাপ করিতে দেখিয়।

সাহিতৌর স্বাস্থ্যরক্ষা ২৫.

তাহার প্রতি সহানুভূতির উদ্রেক হয়। আর, ভাহার প্রথম জীবনের হিততরবৃত্তি ভোগলালসা বিহারীর প্রেমে প্রশমিত হইয়া তাঁহাকে যথার্থ তপস্থিনী করিরা তুলিয়াছিল। হিন্দু বিধবার পক্ষে অবশ্তই পরপুরুষের প্রতি প্রেমে তপস্বিনী হওয়াটাও নিতান্ত দোষের, সন্দেহ নাই তবুও বিনোদিনী যে ভাবে জীবন আরন্ত করিয়াছিল, তাহার পক্ষে ইহা মন্দেরপ্ভাল, সন্দেহ নাই আমার কথা এই, গ্রন্থকার এক জন হিন্দু বিধবাকে এইরূপ পরপুরুষের প্রেমে তপস্থিনী সাজাইয়া তাহার প্রতি আমাদের সহান্তৃভৃতি আকর্ষণ করিয়া সমাজের অনিষ্ট করিয়াছেন। আর এই গ্রন্থের প্রায় পনের আনা ভাগে পাপের চিত্র অতি উজ্জ্বল বর্ণে চিত্রিত হইয়াছে। এইরূপ পাঁপ-চিত্রের সহিত পাঠক-পাঠিকার মনের ঘনিষ্ঠতা জন্মিলে, পাপের প্রতি ঘ্বণাও ক্রমে কমিয়া আমে এই হিসাবে এই গ্রন্থ সমাজ-শরীরের পক্ষে বিষস্বরূপ।

রবীন্দ্রনাথের “চোখের বালির” পরে, বিধবার প্রেমে পড়া লইয়া আরও কয়েকখাঁনা বই বাহির হইয়াছে। তাহার মধ্যে বর্তমান সময়ের লোকপ্রির স্ুপ্রসিদ্ধ উপন্টাসলেখক শ্রীযুক্ত শরৎচন্ত্ চট্টোপাধ্যায়ের “বড়দিদি পল্লীসমাজ' উল্লেখযোগ্য এই সকল বই অনেকেই পড়িয়াছেন, সুতরাং ইহাদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়। অনাবশ্তক _ প্বড়দিদি” মাধবী দেবী এক জমীদারের কন্তা) যোগেন্দ্রনাথ নামক একটি সুশিক্ষিত সচ্চরিত্র বুবকের সহিত তাহার এগার

২৬. সাহিত্যের স্যাস্থ্যরক্ষা |

বংসর বয়সে বিবাহ হয় ; তাহার তিন বংসর পরেই সে বিধবা হয় স্বামীর হৃত্যুর পরে মাধবী স্বামীর উপদেশে ক্রোধ ভিংস। দ্বেষ প্রভৃতি ত্যাগ করিয়া স্নেহ মমতা লইয়া পিতৃভবনে ফিরিয়া আদিল, এবং পিতার সংসারে স্নেহমরী সর্বময়ী কত্রী হইয়া পড়িল। সুরেন্দ্রনাথ নামক একটি এম, এ, পাশকরা উকীলের ছেলে বিলাত যাইতে না পারিয়া রাগ করিয়া বাড়ী ছাড়িরা চাকুরীর চেষ্টার কলিকাতায় আসিয়া মাধবীর ছোট ভগ্নী প্রমীলার গৃহশিক্ষক নিধুক্ত হইল। ছেলেটি নিতান্ত বাহজ্ঞানশূন্ত। সে প্রায়ই অন্যমনস্ক হইয়া 10701)917)91105এর 1১700191) চিন্তা করিত তাহার আচরণ দেখিস কেহ তাহাকে চিনিতে পারিলতনা। তাহার নিতান্ত অসহায় অবস্থা দেখিয়! মাধবীর তাহার প্রতি দয়! হইল। সে-ও খাওয়া পর! প্রভৃতি সকল বিষয়ে বডদিদির প্রতি নিতান্ত নির্ভঘশীল হইয়া পড়িল। ক্রমে মাধবীর তাহার প্রতি ভালবাসা জন্মিল। সুরেন্দ- নাথও অলক্ষিতভাবে বড়দিদিকে ভালবাসিয়া ফেলিল। প্রমীলাকে রীতিমত না৷ পড়ানর দৌধে এক দিন মাধবী তাহার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করিল। পরে চাকরের কথায় সুরেন্দ্র সেখান হইতে হঠাৎ এক দিন চলিয়া গেল। তখন মাধবীর শিরে বজাঘাত হইল। পরে কলিকাতাব রাস্তার চলিতে চলিতে স্থরেন্্র' গাড়ী চাপ পড়িয়া হাসপাতালে আনীত হইল। সেখানে ক্রমে সুস্থ হইয়া তাহার পিতাকে সংবাদ পাঠাইয়।৷ আ'নরা তাহার সঙ্গে বাড়ী ফিরিয়া গেল। পরে সে তাহার মাতামহের বিস্তীণ জমীদারীর মালিক হইয়! বিবাহ করিল। কিন্তু সে জীবনে স্তুথী হইল না। তাহার ম্যানেজারের

সাহিত্যের স্বাস্থ্য রক্ষা | ২৭

হাতে জমীদারীর ভার ছাড়িয়া দিয় কুৎসিত আমোদ প্রমোদে গা ঢালিয়া দিল। দিকে মাধবীর পিতার মৃত্যুর পরে, তাহার ন্রাতৃবধূর কর্তৃত্ব সহা করিতে ন৷ পারিয়া, সে তাহার বহুকালপরিত্যক্ত স্বামিগৃহে ফিরিয়া আদিল। তাহার স্বামীর বাড়ী সুরেন্দ্রনাথের জমীদারীর মধ্যে আর এক জন দৃর-সম্পকীয় আত্মীয় স্বুরেন্্র- নাথের ম্যানেজারের সহিত চক্রান্ত করিয়া মাধবীর সম্পত্তি বাকী খাজনার জন্ত নিলাম করাইয়া খরিদ করিয়া লইল। হ্ঠাঁৎ স্থরেন্দনাথ এই কথ! জানিতে পারিল, এবং তৎক্ষণাৎ ঘোড়ায় চড়িঘ়া মাধধীর শ্বশুরের গ্রামে খাত্রা করিল। স্ুরেন্দ্রনাথ তখন রুগ্ন, বেগে বাইতে যাইতে ভাহার মুখ দিয়া রক্ত উঠিল। মাধবী সে দিন বাড়ী ছাড়িয়া নৌকার যাত্রা করিয়াছিল; স্ররেন্্রনাথ 'বড়দিদি বন্ুিপি” বলিয়া ডাকিতে ডাকিতে সেই নৌক। ধরিল। তখন তাহার মুখ দিয়া রক্ত উঠিতেছে। মাধবী তাহাকে কোলে শোয়াইয়া সেই নৌকায় স্ুরেন্দ্রনাথের বাড়ীতে লইয়া আসিল। সেখানে বড়দিনির কোলে মাথা রাখিয়া স্ুরেক্নাথ প্রাণত্যাগ করিল। : |

গল্পটি ক্ষুদ্র, কিন্ত গ্রন্থকারের কলা-কৌশলে মাধবী-চবিত্র জন্দর কুটিয়াছে, এবং নিতান্ত মন্রষ্পর্শী হইয়াছে কিন্তু স্থানে *মামাদের নালিশ এই, তিনি মাধবীকে দেবীরূপে চিত্রিত করিয়া অবশেষে মানবী করিলেন কেন? তাহার স্বামী মৃত্যুকালে তাহাকে বলিয়াছিল-_“তুমি সংপথে থাকিও, তোমার পুণো আবার তোমাকে পাইব। মাধবী স্বামীর সেই সছুপদেশ ভুলিল কেন ? “যে জীবন

২৮ সাহিত্যের স্থীস্থারক্ষা |

তুমি আমার সুখের জন্য সমর্পণ করিতে, তাহা, সকলের সুখে সমর্পণ করিও ইহা উত্তম কথা। হিন্দু! বিধবার ইহাই জীবনের, আদর্শ হওয়া, উচিত। মাধবী প্রথমে এই আদর্শের অন্ুরণ করিয়া বাড়ীর নকলের বড়দিদি হইয়াছিল। মাষ্টারটিও তাহাকে সেই সুত্রে বড়দিদি বলিভ। সে বেরপ নির্মলচরিত্র যুবক, তাহার মনে কুভাব আসিতেই পারে না। বড়দিদিও তাহার স্নেহমরী ভগিনীর স্থান অধিকাঁর করির। থাকিতে পারিতেন। কিন্তু সেই পূণ্যময় গৌরবান্ধিত সম্ন্ধ ত্যাগ করিয়া দেবতুলা স্বামীকে তুলিয়া মাধবী প্রেমে পড়িল কেন? আমরা গ্রন্থমধ্যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজিয়া পাই না বিনোদিনীর ত্ুক্তে বেমন প্রেমে পড়ার বীজ ছিল, এবং তাহার বালাকাঁলের শিক্ষায় সেই বীজের বিকাশ হইয়াছিল, মাঁধবীব মধ্যে আমরা সেরূপ কিছু পাই ল|। সুরেন্দ্র নাথের মধ্যেও সে সকল ভাবের একান্ত অভাব। তবে ইহা এই এক উত্তর হইতে পারে, 9৮৭ 15 00710 কনর্প- দেবের দেশকালপাত্র বিবেটন। নাই। কিন্তু ইহা নিতান্ত মামুলী কৈফিয়ৎ। আসল কথা এই, প্রেম না হইলে নবেল হয় না, আর বিধবাকে প্রেমে না ফেলিলে নবেলের উপকরণ কোথা হইতে আসিবে? কিন্ত গ্রন্থকার বাত্সল্য রূস ফুটাইরা অনেক গল্প লিখিয়াছেন। তাহার এবন্দুর ছেলে" 'রাঁমের স্মতি', মেজদিদি” প্রভৃতি গল্প মধুর__অতি মধুর তিনি বিড়দিদি'কে বড়দিদি রাখিয়াও বাতসল্য রস বেশ ফুটাইতে পারিতেন, তাহা হইলে এই ্রন্থখানি বীভৎসরসপ্রধান হইত না। তবে আজকাল লোকে

সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা ২৯

এইরূপ উৎকট বরসই বেণী পছন্দ করে। গ্রন্থকারও বোধ হয় তাহাদের খোরাক যোগান আবশ্তক মনে করেন। কিন্তু এইরূপ অপবিত্র প্রেমের চিত্র দ্বারা সমাজের কি অনিষ্ট হইতেছে, ইভা একবার চিন্তা করা উচিত। মাধবীর এক সথী মনোরম। তাহার স্বামীকে মাধবীর প্রেমে পড়ার কথা লিখিয়াছিলেন। ততুত্তরে তিনি লিখিলেন-__

মাধবী পোড়ারমুখী তাহাতে আর সন্দেহ নাই, কেন না বিধবা হইয়। মনে মনে আর এক জনকে ভাঁলবাসিয়াছে। তোমাদের রাঁগ হইবার কথ|-_বিধব। হইয়া সে তোমাদের সধবার অধিকারে হাত দিতে গিয়াছে ।..কিন্ত,কি জান মনোব্রমা, তুমি আমাকে আশ্চর্য্য করিতে পার নাই, আমি একবার একটা লতা। দেখিয়া- ছিলাম, সেটা আধ ক্রোশ ধরিয়! ভূমিতলে লতাইয়! লতাইয়া অব- শেষে একটা! বৃক্ষে জড়াইরা উঠিয্াছে। এখন তাহাতে কত পাতা, কত পুষ্পমঞ্জরী। তুমি বখন এখানে আসিবে, তখন ছু'জনে সেটিকে দেখিয়া আসিব ।, |

আমুর! এখানে গ্রন্থকারের মাধবীকে মানবী করার টি কৈফিয়ৎ পাইতেছি। তাহার মতে, বিধবা আশরয়বৃক্ষশূন্ঠ .লতার হ্যায় কেন মাটতে গড়িয়া থাকিবে? তাহার অন্ত বুক্ষ আশ্রয় করিয়। পুষ্সফলে শোভিত হওয়াই জীবনের সার্থকতা অবশ, ইহাই বর্তমান সময়ের 1109141 ৮16৮ (উদার মত )) কিন্তু এই উদার মত হিন্দুসমাজ : পর্যান্ত' গ্রহণ করে নাই . আমাদের মতে স্বধর্শে প্রতিঠিত। হিন্দু বিধবারূপ লতা: ভূমিতলে গড়াইবে

৩০ সাহিত্যের স্থাস্থ্যরক্ষা |

কেন? তাহার স্থান দেবমন্দিরের চুড়ায়। তাহার সেই গৌরবের স্থান হইতে তাহাকে ভ্রষ্ট করিবার পক্ষে ধাঁহারা সাহায্য করেন, তাহার! সমাজের উপকার না৷ করিয়া অপকার করেন।

: এই গ্রন্থকারের “পল্লীসমাজে” আর একটি হিন্দু বিধবার পতনের